গঙ্গা চুক্তি নিয়ে দ্রুত আলোচনার তাগিদ ভারতের

0
2

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়ায় অবিলম্বে চুক্তি নবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে ভারত সরকারকে তাগিদ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি তাদের ১৫তম ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’-এ এই সুপারিশ উপস্থাপন করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও এটি নবায়নে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত আলোচনা শুরুর তাগিদ দিয়েছে প্যানেলটি। ভারতের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ

মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করা—উল্লেখ করে কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হাইড্রোলজিক্যাল বা পানিপ্রবাহের তথ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বিবেচনায় নেওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পর্যালোচনা শেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে কালবিলম্ব না করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা উচিত।

ভারতের এই সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ গভীর করার এবং একটি ‘শক্তিশালী রাজনৈতিক নিবিড়তা’ গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালের যৌথ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে একটি স্থিতিশীল ও পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণে উপস্থিত থাকাকে স্বাগত জানিয়েছে কমিটি।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, মোংলা বন্দরের ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, চট্টগ্রামে বিশেষ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং তিস্তা নদী প্রকল্পে সম্ভাব্য সহযোগিতাসহ সম্প্রতি ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নে পুনর্বিবেচনা করে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার অধীনে ১২টি পূর্ব-বাস্তবায়ন পর্যায়ের ‘লাইন অব ক্রেডিট’ প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ৮টি চলমান সংযোগ বা কানেক্টিভিটি প্রকল্প (রেলওয়ে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সড়ক সম্প্রসারণ) নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে অনির্মিত অংশে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন করা, বিএসএফ ও বিজিবির নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পুনরায় সংসদীয় বিনিময় ও শিক্ষাগত-দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here