২০ বছর পর ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট প্যালেস্টাইনিয়ান লেজিসলেটিভ কাউন্সিল (পিএলসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ নির্বাচনকে ঘিরে পিএলসিতে আসন সংখ্যা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। আগে পিএলসির আসন সংখ্যা ছিল ১৩২টি। গত জুন মাসে এক সংস্কার প্রস্তাবে সায় দিয়ে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ২০০টি করেছিল ক্ষমতাসীন পিএলও জোট সরকার।
কিন্তু মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক ডিক্রি জারি করে বলেছেন, আগে পিএলসিতে যে ১৩২টি আসন ছিল, তা ই বহাল থাকবে। ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সংবাদিকদের জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ ডিক্রির অনুলিপি হাতে পেয়েছেন।
মঙ্গলবারের ডিক্রিতে অবশ্য জুনে প্রবর্তিত সংস্কারের কয়েকটি বিধান বহাল রাখা হয়েছে; যেমন—সংসদীয় প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম বয়স ২৮ থেকে কমিয়ে ২৩ করা, নির্বাচনী তালিকায় প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৩৩% নারী থাকা বাধ্যতামূলক করা প্রভৃতি।
সেই সঙ্গে এই শর্তও রাখা হয়েছে যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) রাজনৈতিক ও জাতীয় কর্মসূচি এবং প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক বৈধতা সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, একই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা করতে করতে পারবেন না এবং প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তা প্রত্যাহার বা সংশোধনের জন্য তিন দিন সময় পাবেন।
নির্বাচনে কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন হবে ফিলিস্তিনে। সেই নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের কাজ শুরু হবে ১৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী ৫ দিন পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই নির্বাচনে পিএলও জোটের পাশাপাশি জোটের বাইরের দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল হামাসও।
কিন্তু পিএলও জোটভুক্ত দল ফাতাহের সঙ্গে হামাসের দ্বন্দ্বের জেরে ২০০৭ সাল থেকে অকার্যকর হয়ে পড়ে পিএলসি। পরে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট আব্বাস পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
সূত্র : আনাাদোলু এজেন্সি।





