প্রথম সেশনে নতুন বলে রীতিমতো আগুন ঝরান হাসান মাহমুদ-তাসকিন আহমেদরা। তাতে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন পেসাররা। বিরতি থেকে ফিরে কিছুটা ধার কমলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলেছে বাংলাদেশ। তাতে দ্বিতীয় সেশনে আরো ৪ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া দুই সেশনেই দাপট দেখিয়ে চালকের আসনে থেকেই চা বিরতিতে গেছে টাইগাররা।
৪৮ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৮৩ রান। ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।
নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।
১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।
১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।
৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।
ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।





