অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারী

0
3

দীর্ঘদিন ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থের অপেক্ষায় থাকা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯ জন এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচির আওতায় আসছেন। এর আগে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ায় পরে তা ১ লাখ ২৩ হাজার করা হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিচ্ছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে চরম কষ্টে ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘব করতেই সরকার এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো ‘আইবাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এ পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

মূলত, শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ হারে কেটে রাখা অর্থের ভিত্তিতে অবসর সুবিধা পরিশোধে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অবসর সুবিধা হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রথম ধাপে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন। পর্যায়ক্রমে তাদের বাকি পাওনা পরিশোধ করা হবে। অবসর সুবিধার ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ চাঁদা জমার ভিত্তিতে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পেতে পারেন।

তবে অবসর সুবিধা বোর্ডে আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত জটিলতাও রয়েছে। বোর্ড সূত্র জানায়, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাইয়ের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বর্তমানে অধিকাংশ আবেদন হাতে-কলমে যাচাই করতে হচ্ছে। এতে আবেদন নিষ্পত্তির গতি কমার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর কাজের চাপও বেড়েছে।

অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। ট্রাস্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা হয়। এ অর্থের ভিত্তিতে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন।

ট্রাস্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে কল্যাণ ট্রাস্টের গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে, প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন আবেদন জমা পড়ে। ফলে মাসিক আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় নিয়মিতভাবেই অর্থের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে জমে থাকা আবেদনগুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here