অবশেষে আসছে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’-এর ষষ্ঠ কিস্তি। নানাবিধ জটিলতায় পঞ্চম পর্বতেই আটকে ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে সেসব জটিলতা কতদূর গড়িয়েছে তা অস্পষ্ট থাকলেও ৯ বছর পর নতুন কিস্তি আসার খবর মিলল।
তবে সিনেমাটির নতুন পর্ব নির্মাণ ঘিরে যত জটিলতা ছিল, সেটা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আইকনিক মুখ জনি ডেপ তথা ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’কে নিয়েই। বিষয়টি খোলাসা করলে, ২০১৮ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি থেকে জনি ডেপের সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন ওঠে। সে সময় সিরিজটির অন্যতম মূল চিত্রনাট্যকার স্টুয়ার্ট বিটি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ডেপের পথচলা হয়তো শেষ হয়ে এসেছে।
আবার একই বছর অভিনেতার সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ড পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখে গৃহ নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। সেখানে ডেপের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, ওই বিতর্কের জের ধরেই ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিক্স’ থেকে ডিজনি তাকে বাদ দেয় বলে শোনা যায়।
পরবর্তীতে অ্যাম্বারের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেন জনি ডেপ। মামলার শুনানিতে ডেপ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন, ডিজনির ওই হটকারী সিদ্ধান্তে তার ক্যারিয়ারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
সে সময় তিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আর কখনো না ফেরার ঘোষণা দিলেও, সব মান-অভিমান ভুলে এবার নতুন করে তাকে নিয়েই ষষ্ঠ কিস্তি নির্মাণের খবর সামনে এলো। সিনেমাটির প্রযোজক জেরি ব্রুকহেইমার সম্প্রতি ডেডলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সিনেমাটিতে এই অভিনেতার ফেরা নিয়ে তারা আলোচনায় বসেছেন। প্রযোজকের কথায়, ‘আমরা জনির সঙ্গে কথা বলছি। চিত্রনাট্য তৈরির কাজ চলছে এবং আশা করছি আমরা এটি সফলভাবে শেষ করতে পারব।’
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার ‘জ্যাক স্প্যারো’ চরিত্রে পর্দায় হাজির হন জনি ডেপ। ডিজনির থিম পার্ক রাইডের অনুপ্রেরণায় নির্মিত এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে তুমুল ব্যবসাসফল হয়। চরিত্রটি রাতারাতি জনি ডেপের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক ভূমিকায় রূপ নেয়।
পরবর্তীতে ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সিনেমাটির আরও চারটি কিস্তি মুক্তি পায়। চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটিই প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি, যার দুটি সিনেমা ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করার রেকর্ড গড়ে। বিশ্বজুড়ে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি ডলার ব্যবসা করা এই সিরিজের সর্বশেষ সিনেমা ‘ডেড মেন টেল নো টেলস’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৭ সালে, যা বক্স অফিসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় করে।



