দেদারছে চলছে নোমান গ্রুপের গ্যাস চুরির মহোৎসব

0
7

গাজীপুরের টঙ্গীতে দেদারছে চলছে নোমান গ্রুপের মালিকানাধীন জাবের এন্ড জোবায়ের ফেব্রিক্সের গ্যাস চুরির মহোৎসব। তিতাস গ‍্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তারদের সাথে যোগ সাজস করে এই চুরি করছে জাবের এন্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স।

সুত্র জানায়, গাজীপুর জেলার টঈী এলাকায় পাগাড় মৌজায় নোমান গ্রুপের মালিকপক্ষ এরই মধ্যে শত শত কোটি টাকার গ‍্যাস চুরি করেছে। বলা হচ্ছে, সাবেক সংসদ সদস্য আহমদ আলী সরদারের মালিকানাধীন সম্পত্তি তথ‍্য গোপনের মাধ্যমে জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের অভ্যন্তরে অন্তত ২ শতাংশ জমি তিতাস গ‍্যাস ট্রান্সমিশন অ‍্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে দলিল করে দেয়। তিতাস গ‍্যাস ট্রান্সমিশন অ‍্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পক্ষে জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে ডিস্ট্রিবিউশন কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

নিজ এলাকা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া চুনতি এলাকার সাবেক সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বাচ্চুর সঙ্গে নিবিড়ভাবে ঘনিষ্ট নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। এর জের ধরে জয়নাল আবোদিনসহ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের নিজেদের অর্থায়নে টঙ্গী ডি,আর,এস থেকে এককভাবে ৮ ইঞ্চি ডায়া গ‍্যাস লাইন ডিস্ট্রিবিউশন কক্ষে সংযোগ দেয়। সেখান থেকেই যাবতীয় কল-কব্জা জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের জিম্মায় রাখা হয়েছে। ৮ ইঞ্চি মূল ডায়া পাইপ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে চোরাই লাইন দিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি গ্যাস চুরি করছে নোমান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স।

সূত্র বলছে, লাইনটি কাগজে কলমে ৮ ইঞ্চি হলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ১২ ইঞ্চি ডায়া পাইপ। গ‍্যাসের লাইনে চাপ কম থাকলে শক্তিশালী সাকশন পাম্প ব্যবহার করে লাইনের গ্যাস টেনে নিচ্ছে জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স। ফলে টঙ্গী এলাকার আশেপাশের সাধারণ গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছে না।

বাইপাস লাইন সংযোগ: জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের মূল সরবরাহ লাইনের মিটারের আগে একটি গোপন পাইপ বা বাইপাস লাইন যুক্ত করা হয় এর ফলে গ্যাস সরাসরি কারখানায় চলে যায়। একারণেই মিটারে কোনো রিডিং ওঠে না।

মিটারে কারসাজি (Meter Tampering): জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিসের উন্নত প্রযুক্তির মিটারের সিল ভেঙে ভেতরের গিয়ার বা চাকা জ্যাম করে দেওয়া হয়। অথবা মিটারের গতি কমিয়ে দেওয়া হয় যাতে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে অনেক কম বিল আসে। জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের গ‍্যাসের এই লাইন থেকে নেওয়া কোম্পানির অনুমতি ছাড়াই জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের কারখানার ভেতরে বা আশে-পাশের নোমান ফ‍্যাশন ফেব্রিক্সসহ নোমান গ্রুপের অন্যান্য ইউনিটে একাধিক অবৈধ সাব-লাইন টেনে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও জাবারের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের নামে কাগজে-কলমে অল্প পরিমাণ গ্যাসের (অনুমোদিত লোড) অনুমোদন নিয়ে গোপনে কারখানার ভেতরের বয়লার বা জেনারেটরের সক্ষমতা বাড়িয়ে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করা হয় এর ফলে জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের জেনারেটর ও বয়লার বিস্ফোরণ হয়ে নিরীহ বহু শ্রমিক মারাত্মকভাবে আগুনে দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছে, অনেকে মারাও গেছে।

এ বিষয়ে টঈী পাগাড় এলাকার স্থানীয়রা ক্ষোভের মুখে জানান জাবের অন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে তিতাস গ্যাসের নির্মিত কক্ষ উচ্ছেদ না হলে এলাকার সাধারণ মানুষসহ ছোট ছোট কলকারখানা গ‍্যাস পাবে না কারণ সবসময় সমস্যা থেকেই যাবে।

জানতে চাইলে টঙ্গী তিতাস অফিসের ম‍্যানেজার জানান জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের লাইন ১২ ইঞ্চি তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এ লাইনটি করা হয়েছে। নাঈম হাসান, নামে এক কর্মকর্তা জানান জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের গ‍্যাসের লাইন আলাদা। উনারা নিজেদের অর্থায়নে তিতাসের হেড অফিস থেকে অনুমোদন নিয়ে আলাদা গ‍্যাসের লাইন করেছে। অবৈধ গ্যাস লাইনের বিষয়ে আমরা জানিনা।

তবে নাম না বলার শর্তে আরেক কর্মকর্তা জানান জাবের এন্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের লাইনটি কাগজে কলমে ৮ ইঞ্চি উল্লেখ করা হলেও বাস্তব পক্ষে এই লাইন ১২ ইঞ্চি পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, সকল অভিযোগ মিথ্যা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here