মিয়ানমারে সামরিক বিমান হামলা, নিহত ১৪

0
3

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। শুক্রবার দেশটির একটি বিরোধী গোষ্ঠী ও স্থানীয় এক বাসিন্দার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা।

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে মিয়াউং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে এ হামলা হয়। মিয়াউং টাউনশিপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংগঠনের মুখপাত্র নুয়ে উ বলেন, একটি যুদ্ধবিমান গ্রামের বৌদ্ধ মঠের চত্বরে বোমা হামলা চালায়। এতে ১৪ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এপিকে বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বর্ষাবাস উপলক্ষে এক সপ্তাহের ধর্মীয় আয়োজন চলছিল মঠটিতে। এ কারণে মঠের ভেতরে ও আশপাশে শতাধিক মানুষ অবস্থান করছিলেন। হামলার সময় যুদ্ধবিমানটি প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা ফেলে।

ওই বাসিন্দা জানান, হামলায় তার শাশুড়িও নিহত হয়েছেন। তিনি মিয়াউং টাউনশিপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংগঠনের দেওয়া ১৪ জন নিহত হওয়ার তথ্যও নিশ্চিত করেন। বিবিসির বার্মিজ পরিষেবা ও স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৪ জনের মধ্যে বলে জানিয়েছে।

হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা কেবল বৈধ ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালায়।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে প্রায় দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার পর দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতিগত গোষ্ঠীর অনেকে সশস্ত্র প্রতিরোধে যোগ দেন।

বর্তমানে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি কয়েক দশক ধরেই সক্রিয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চিও আটক রয়েছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই নেত্রী মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য পদ। চলতি বছরের এপ্রিলে তাকে গৃহবন্দি করা হয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের চলমান যুদ্ধে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির প্রায় ৪২ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে প্রতিরোধ ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে। অন্যদিকে সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আনুমানিক ২১ শতাংশ এলাকা।

হামলাটি যে মিয়াউং টাউনশিপে হয়েছে, সেটি সাগাইং অঞ্চলে অবস্থিত। অঞ্চলটি মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা আগস্টে জানিয়েছিল, দেশটিতে বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব হামলা বেড়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী শুধু সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে আসছে।

সূত্র : আল জাজিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here