পাসপোর্ট গ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ অভিযানের তথ্য জানিয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে পাওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযানে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভিযানের প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’
দুদক সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ গ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা, নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ঘুষের মাধ্যমে দ্রুত পাসপোর্টের কাজ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত লেনদেনের অভিযোগও পেয়েছে দুদক।
অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংশোধন, ছবি ও বায়োমেট্রিক গ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপে গ্রহীতাদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া এবং টাকা দিলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আজকের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ছয় মাস পর সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দুদকের প্রথম এনফোর্সমেন্ট অভিযান। ফলে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কমিশনের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হতে পারে।





