বিচারকের প্রশ্ন : খালেদার ‘অনুপস্থিতিতে’ বিচার চলবে কিনা.?

0
624

খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে ‘অনিচ্ছুক’ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মৌখিকভাবে আবেদন করে বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যেহেতু নিজেই অনিচ্ছা পোষণ করেছেন, ফলে তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলতে বাধা নেই।

নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারা অভ্যন্তরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা পোষণ করেছেন।

এ অবস্থায় বিচারক আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন- প্রধান আসামির অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলতে পারে কি না। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপক্ষের আইনজীবীদের পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।

বুধবার কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিচারক (ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ) ড. মো. আখতারুজ্জামান উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করতে বিচারকের প্রতি অনুরোধ করেন। তবে খালেদা জিয়াসহ জামিনে থাকা অপর দুই আসামির পক্ষের আইনজীবীরা কারা আদালতের বিচারকাজকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে বলেন, সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি ছাড়া এভাবে কারাগারের ভেতরে আদালত বসিয়ে সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার করা সংবিধান ও আইন পরিপন্থী। আইনজীবীরা এই আদালতে বিচার শুনানি না করার জন্যও বিচারকের প্রতি অনুরোধ জানান। জামিনে থাকা দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার বিচারকাজ এক মাসের জন্য স্থগিতেরও আবেদন করা হয়। তবে আদালত তা নাকচ করে দেন।

খালেদা জিয়া জেল থেকে আদালতে হাজির না হলেও তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নথিতে রেখে একদিনের জন্য তার (খালেদা জিয়া) জামিন বর্ধিত করেন।

বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন। যদিও সকাল থেকেই আইনজীবীসহ গণমাধ্যমের কর্মীরা আদালতে অপেক্ষা করতে থাকেন। কখন খালেদা জিয়াকে এজলাসে তোলা হবে। কখন বিচারক আসবেন। ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে একবার শোরগোল পড়ে গেল খালেদা জিয়াকে এজলাসে তোলা হচ্ছে। তাকে পাশের ভবন থেকে আনার দায়িত্বে নিয়োজিত কারা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরকে কয়েককার দৌড়ঝাঁপও করতে দেখা গেছে। তবে খালেদা জিয়া ‘অনিচ্ছুক’ হওয়ায় তাকে আর আদালতে তোলা হয়নি।

এ অবস্থায় তার অনুপস্থিতিতেই শুনানি শুরু হয়। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতের কাছে পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করেন। এর একটি হচ্ছে খালেদা জিয়ার জামিন বর্ধিত করার জন্য। আরেকটি প্রধান বিচারপতির কাছে তাদের একটি আবেদন প্যান্ডিং থাকার বিষয়টি জানানো।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেছিলেন- এই আদালত চলতে পারে না। এখানে ন্যায়বিচার নেই। যত ইচ্ছা সাজা দিতে পারেন।

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ। আমি বারবার আদালতে আসতে পারব না। আর এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যাবে।

লিখিত আবেদনকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রয়ারি থেকে ঢাকার পুরাতন কারাগারে বন্দি আছেন। তার বিরুদ্ধে করা এই মামলার বিচারকাজ চলছিল বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মাঠ সংলগ্ন বিশেষ আদালতে। তবে এই বিচারকাজ পরিচালনার জন্য পুরাতন কারাগারের ৭নং কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে সরকার যে গেজেট প্রকাশ করেছে তা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী। কারণ এতে সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি নেয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল দাঁড়িয়ে বিচাকের উদ্দেশে বলেন, আজ আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আপনি শুনানি গ্রহণ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here