
কে বিশ্বাস করবে এ নিউজিল্যান্ডই নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে ছিল অপ্রতিরোধ্য! অথচ স্বাগতিকদের বিপক্ষে গতকাল তারা স্রেফ উড়ে গেছে। বিশ্বকাপের অর্ধেক গত হওয়ার পরও কিউইদের সেমি খেলা নিয়ে তাদের ঘোরতর শত্রুও প্রশ্ন তোলার সাহস করেনি। শেষ চারে খেলা নিয়ে এখন তারাই কিনা এখন রয়েছে বিশাল ঝুঁকিতে।
যারা জিতবে তারাই সেমিতে, পরাজিত দলের অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত এমন সমীকরণ মাথায় নিয়েই চেস্টার লি স্ট্রিটে গতকাল খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের বিশাল জয়ে এখন অপেক্ষা করতে হবে কিউইদের। কিউইদের ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পর তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। নিজেদের সবক’টি ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডের ঝুলিতে জমা পড়েছে ১২ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১১ পয়েন্ট। তবু আশা শেষ হয়ে যায়নি কিউইদের। শুক্রবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে সরাসরি সেমিতে চলে যাবে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান জিতলে আসবে নেট রানরেটের হিসাব।
গতকাল ইংল্যান্ড খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ডের মতোই। চলতি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই এমন আক্রমণাত্মক তারা। ৩২তম ওভারে ইংল্যান্ডের ছিল দুই উইকেটে ২০৬ রান। যে ব্যাটিং লাইনআপ, শেষ ১৮ ওভারে ইংলিশদের জন্য আরও দেড়শ যোগ করা কোনো ব্যাপার ছিল না। সেক্ষেত্রে সংগ্রহটা হওয়ার কথা ছিল সাড়ে তিনশর আশপাশে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হলো না। ইনিংসের শেষ ভাগে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের তোপে সেভাবে দাঁড়াতেই পারেননি ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। ফলে ইংল্যান্ডের ইনিংস আটকে গেছে আট উইকেটে ৩০৫ রানে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিক ওপেনিং ব্যাটসম্যান বেয়ারস্টো। তবে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের হারের পর সমালোচনার ভার বহন করতে হয় তাকেও। কেননা, সেই দুই ম্যাচ তিনিও ভালো করতে পারেননি। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ট্র্যাকে ফেরেন এ ব্যাটসম্যান। রানের সেই ধারাবাহিকতায় গতকালও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তুলে নিলেন বেয়ারস্টো।
বেয়ারস্টোর সঙ্গে জেসন রয়ের ওপেনিং জুটি গড়াল ১২৩ রানে। ৬১ বলে আট বাউন্ডারিতে ৬০ রান করা রয়কে ফিরিয়ে জুটিটি ভাঙেন জেমস নিশাম। তারপরও ৩০তম ওভার পর্যন্ত বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড, রান ছিল এক উইকেটে ১৯৪। ট্রেন্ট বোল্টের করা ৩১তম ওভারের প্রথম বলে ২৪ রান করে জো রুট আউট হওয়ার পরইে যেন মড়ক লেগে যায় ইংলিশ ইনিংসে। পরের ওভারে ম্যাট হেনরির দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন সেঞ্চুরিয়ান জনি বেয়ারস্টো। ৯৯ বলে গড়া ইংলিশ ওপেনারের ১০৬ রানের ঝড়ো ইনিংসটি ছিল ১৫টি চার আর একটি ছক্কায় সাজানো। এরপর জস বাটলার (১১), বেন স্টোকস (১১), ক্রিস ওকস (৪) অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরে গেলে বিপদেই পড়ে ইংল্যান্ড। দুই উইকেটে ২০৬ রান থেকে ছয় উইকেটে ২৫৯ রানে পরিণত হন স্বাগতিকরা।
তবে সতীর্থদের এই আসা-যাওয়ার মাঝেও ৪০ বলে ৪২ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন ইংলিশ দলপতি ইয়ন মরগান। এছাড়া শেষদিকে আদিল রশিদের ১২ বলে ১৬ আর লিয়াম প্লাংকেটের ১২ বলে অপরাজিত ১৫ রানের দুটি ছোট ইনিংসে ৩০০ পার করতে করেন স্বাগিতকরা। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি আর জেমস নিশাম।
৩০৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপটিল আট আর হেনরি নিকোলস শূন্য রানে বিদায় নেন। দলপতি কেন উইলিয়ামসন ৪০ বলে ২৭ রান করে বিদায় নেন। অভিজ্ঞ রস টেইলর ৪২ বলে করেন ২৮ রান। টম ল্যাথাম ৬৫ বলে পাঁচটি বাউন্ডারিতে করেন ৫৭ রান। জিমি নিশামের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। কলিন ডি গ্রান্ডহোম (৩) বেশিদূর যেতে পারেননি। মিচেল স্যান্টনারও ১২ রানে ফেরেন। লেজের সারির টিম সাউদি, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্টরা দলকে টানতে পারেননি। ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকস একটি, জোফরা আর্চার একটি, লিয়াম প্লাংকেট একটি, মার্ক উড তিনটি, বেন স্টোকস একটি, আদিল রশিদ একটি করে উইকেট পান।








