জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন কানাডার আদালত। এ নিয়ে এক মামলায় কানাডার ফেডারেল আদালত গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয় বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফেডারেল আদালতের বিচারক জেমস ডব্লিউ ওরেইলি রায়ে বলেছেন, নূর চৌধুরীর অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে জনস্বার্থের ব্যাঘাত ঘটবে না। সুতরাং তার বিষয়ে বাংলাদেশকে তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
এর আগে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা কীভাবে কানাডায় বসবাস করছেন, সেই অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য দেশটির সরকারের কাছে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কানাডার আইনে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে প্রত্যর্পণে বাধা থাকায় সে দেশের সরকার ‘জনস্বার্থ রক্ষার’ যুক্তি দিয়ে তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশত্যাগ করে নূর চৌধুরী। সে বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা মামলার চূড়ান্ত বিচারে নুর চৌধুরীর ফাঁসির রায় হয়।
কানাডার দি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নূর চৌধুরী ও তার স্ত্রী ১৯৯৬ সালে সেদেশে যাওয়ার পর উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করেন। তার দুই বছরের মাথায় নিম্ন আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে নূর চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়।
গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকায় ২০০২ সালে কানাডা নূর চৌধুরী দম্পতির আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আপিল করেও ২০০৬ সালে তারা হেরে যান। কিন্তু তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে খুনি নূর চৌধুরী কানাডা থেকে তার বহিষ্কার এড়াতে ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ আবেদন করে। তাতে সে উল্লেখ করে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে।
কানাডার অ্যাটর্নি দফতরের সিদ্ধান্তহীনতায় প্রায় ১০ বছর আবেদনটি নিষ্পত্তি হয়নি। পরে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের জুন মাসে কানাডার ফেডারেল কোর্টে ‘রিট অব ম্যানডামাস’ দাখিল করা হয়। নূর চৌধুরীর আবেদনের বিষয়ে অ্যাটর্নি দফতরকে সিদ্ধান্ত জানানোর অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা চেয়েই বাংলাদেশের পক্ষে এ আবেদন করা হয়।









