একাত্তরের রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রথম পর্বের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও (প্রথম পর্ব) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয় সংলগ্ন সরকারি পরিবহন পুল ভবনের ৬ তলায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা ঘোষণা করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইট www.molwa.gov.bd এ তালিকা পাওয়া যাবে।
একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনে যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন, সেসব রাজাকারের তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হয় রোববার।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা অবগত আছেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস তাদের স্থানীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি বাহিনীর সহায়তায় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৩০ লাখ বাঙালিদের হত্যা করেছে। একই সঙ্গে দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করে।
স্থানীয় এসব দোসররা পাকিস্তানিদের সহযোগিতা না করলে এ হত্যাকাণ্ড ও অত্যাচার সংঘটিত হতো না। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ও ত্বরান্বিত হতো। এসব সহযোগীদের অনেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকারদের এই তালিকা নতুন কোনও তালিকা নয়। নতুনভাবে কাউকে তালিকা করতেও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ওই সময় ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজি প্রেসের প্রকাশিত গেজেটে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদের নামই এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে। তবে এটি এখনও পরিপূর্ণ নয়। অনেক জেলার ডিসি জানিয়েছেন, তারা রেকর্ড রুমে এ ধরনের কোনও তথ্য পাননি। আমরা তাদেরকে আরও খোঁজাখুঁজি করার জন্য বলেছি। বহু বছরের পুরনো বলে পেতে হয়তো সময় লাগছে। আশা করছি, ২৬ মার্চের মধ্যেই এই তালিকা চূড়ান্ত করতে পারবো। এ নিয়ে ভীত হওয়ার কোনও কারণ নাই। যেকোনও সূত্র থেকে পাওয়া যেকোনও তথ্য সরকারের হাতে এলে যাচাই-বাছাই না করে কোনোভাবেই তা প্রকাশ করা হবে না।’
মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের একই কাজ করতে গিয়ে যদি ১০ জন অপরাধী ছাড়াও পেয়ে যায় তারপরেও একজনও নিরাপরাধ ব্যক্তি অভিযুক্ত হবেন না।’









