টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে আজ শুক্রবার। বাদ ফজর বয়ানের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্বের প্রথম দিন ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুমার নামাজের বৃহত্তম জামাত। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জুমার নামাজ শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।
দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উপস্থিতিতে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির- আসকার আর আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখর কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগপারের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমা স্থলে হাজির হন।
ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সব স্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটে আসেন জুমার নামাজ আদায় করার জন্য। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি- গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হয়েছেন।
এদিকে জুমার নামাজের বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ এ জুমার নামাজের ইমাম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমেদ উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের বেলাল মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেন।
জুম্মার নামাজে শরিক হন ধর্মমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে ইজতেমা মাঠে। মেঘলা আকাশ, হালকা বৃষ্টির সঙ্গে শীতের প্রকোপ। এমন আবহাওয়া উপেক্ষা করে মানুষ জমা হতে থাকে টঙ্গীর তুরাগপাড়ে। মুসল্লিদের পদচারণে মুখর পুরো ইজতেমা ময়দান। টঙ্গীমুখী মানুষের ঢলে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ইজতেমা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আজ প্রথম দিন। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে সময় কাটাচ্ছেন। তবে শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।
তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা পালন করবেন ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি। আর সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ইজতেমা করবেন ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি।









