বিশ্বব্যাপী প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। বর্তমানে এই ভাইরাসে বিভিন্ন দেশের মধ্যে টালমাটাল ভারত। গেল বেশ কয়েকদিন ধরেই দেশটিতে প্রতিদিন সংক্রমণের রেকর্ড একের পর এক ভেঙ্গে যাচ্ছে। যেনো পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও খারাপ হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছে ৩ হাজার ৪৯৮ জন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) দেশটিতে প্রথমবারের মতো দৈনিক সংক্রমণ ২ লাখ পেরিয়েছিল। এর ৪/৫ দিন পর থেকে রোজই সংক্রমণ হচ্ছে ৩ লাখের উপরে। কোনভাবেই যেন দেশটিতে করোনার লাগাম টানা যাচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরেই টানা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছেই। বিপর্যস্ত ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু ও শনাক্তের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একদিনে নতুন করে মারা গেছেন ৩ হাজার ৪৯৮ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার। তবে আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
একদিন আগেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তিন লাখ ৭৯ হাজারের বেশি এবং মারা গেছে তিন হাজার ৬৪৫ জন। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানের মৃতের সংখ্যা কিছুটা কমলেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।
এখন পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৩৩০ জন। এ নিয়ে টানা ৯ দিন ধরে ভারতে নতুন সংক্রমণ তিন লাখের বেশি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমণ ১ কোটি ৮৭ লাখের বেশি।
করোনা সংক্রমণে এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং দিল্লি। মোট সংক্রমণের বেশিরভাগই এসব রাজ্যে।
মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ হাজার ১৫৯ এবং মারা গেছে ৭৭১ জন। অপরদিকে কেরালায় গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৬০৭ জন। এখন পর্যন্ত ওই রাজ্যে এটাই একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন জানিয়েছেন, আগামী ৪ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কর্ণাটকে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ২৪ এবং একই সময়ে মারা গেছে ২৭০ জন। দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। করোনা সংক্রমণে রাজধানী দিল্লির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে নতুন সংক্রমণ ঘটেছে ২৪ হাজার ২৩৫। অপরদিকে একই সময়ে মারা গেছে ৩৯৫ জন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।









