দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলোকবর্তিকা-আলুটিলা-বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়

0
4

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলোকবর্তিকা—আলুটিলা-বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের দাবি। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা-বটতলী এলাকার আলুটিলা-বটতলী উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে।

বর্তমানে এখানে প্রায়৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষকে এই দুর্গম এলাকায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। সেইসঙ্গে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যেও এ অঞ্চলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় যাতে নতুন বসতি গড়ে ওঠা পরিবারের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। সময়ের পরিক্রমায় আলুটিলা-বটতলী উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এখান থেকে পড়াশোনা করে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ, নানা যোগ্যতা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টি এখনো জাতীয়করণের বাইরে রয়ে গেছে। তাদের মতে, জাতীয়করণ হলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়বে, এবং শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। জাতীয়করণের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, বিজ্ঞানাগার, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।

এতে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শহরের শিক্ষার্থীদের মতোই সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে। শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, ঝরে পড়ার হার কমবে, এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, আলুটিলা-বটতলী উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়; বরং পুরো এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

একটি শিক্ষিত প্রজন্মই পারে একটি অঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিতে। তাই, সংশ্লিষ্ট সকলের একটাই প্রত্যাশা—দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে আলুটিলা-বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়কে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here