ছোট শহর গোয়ালিয়র থেকে উঠে আসা সেই সাধারণ ছেলেটি যে একদিন অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল সে স্বপ্ন আজ সত্যি হলো। ভারতের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করে আবেগপ্রুত হয়ে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এই অর্জন দেশের প্রতিটি প্যারাঅলিম্পিয়ানকে উৎসর্গ করেছেন।
গুজরাটে আয়োজিত ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ‘রজত কমল’ ও সম্মাননা সনদ গ্রহণ করেন কার্তিক। কাস্টিং ডিরেক্টর ও খ্যাতিমান নির্মাতা কবির খানের পরিচালিত ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমাতে ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মুরলিকান্ত পেটকরের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ছবিটিতে নিজের অনবদ্য শারীরিক পরিবর্তন ও দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। এ বছর যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান ও মালয়ালম মেগাস্টার মাম্মুটি (ব্রহ্মযুগম সিনেমার জন্য)।

পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেন কার্তিক। মঞ্চে নিজের নাম ডাকার মুহূর্তটির অনুভূতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘গোয়ালিয়রের সেই সাধারণ ছেলেটির দিকে আজ পিছন ফিরে হাসিমুখে তাকাচ্ছি, যে এমন এক পরিবেশ থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে মানুষ এমন স্বপ্নে কেবল হেসে উড়িয়ে দিত। অবশেষে আমি সেই মুহূর্তটির সাক্ষী হলাম এবং জীবনকে উপভোগ করলাম… আনন্দে আর উত্তেজনায় এখনও অনুভূতিহীন লাগছে।’
নিজের এ অর্জনকে ছোট শহরের এক সাধারণ ছেলের বড় স্বপ্ন হিসেবে বর্ণনা করে কার্তিক আরও লেখেন, ‘ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক গোল্ড চ্যাম্পিয়ন মুরলিকান্ত পেটকর স্যারের চরিত্রটি বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলার মতো বড় দায়িত্ব আমার ওপর বিশ্বাস করে দেওয়ার জন্য কবির স্যার এবং সাজিদ স্যারের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। যাত্রাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল, কিন্তু শেষ পরিণতিটা রসমলাইয়ের মতোই মিষ্টি! আমি একই সঙ্গে নম্র ও আবেগপ্রবণ অনুভব করছি।’
কঠিন এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকার জন্য পরিবার, বন্ধু ও পুরো দলকে ধন্যবাদ জানান এই তারকা। নিজের এই সেরা অর্জনটি দেশের প্রতিটি প্যারাঅলিম্পিয়ান এবং যারা অসম্ভবকে স্বপ্ন দেখার সাহস দেখায় তাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে তিনি বার্তা শেষ করেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই এবং বলতে চাই, এটি কেবল অনেকগুলো মাইলফলকের সূচনা মাত্র… গণপতি বাপ্পা মোরিয়া।’









