ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের মামলা নতুন করে আলোচনায় আসার পর সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনির কথিত ‘ডাবল কনট্রাক্ট’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি। তার দাবি, বিষয়টি নতুন কিছু নয় এবং এ নিয়ে তার উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ নেই।
তুরস্কের বিপক্ষে ইতালির নেশনস লিগ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মানচিনিকে ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক মামলায় তার সময়কার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি জানান, এই বিতর্ক তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সমস্যা নয়।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন মানচিনি। তার অধীনে ২০১১ সালে এফএ কাপ জেতে সিটি। পরের মৌসুমে ৪৪ বছর পর প্রথমবার ইংলিশ শীর্ষ লিগের শিরোপাও জেতে ক্লাবটি।
সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকের সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মানচিনির পারিশ্রমিক নিয়ে ‘ডাবল কনট্রাক্ট’-এর অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সিটির সঙ্গে মানচিনির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছিল। পাশাপাশি আবুধাবির ক্লাব আল-জাজিরার সঙ্গে আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত অর্থ পেতেন। সেই চুক্তিতে বছরে মাত্র চার দিন পরামর্শক হিসেবে কাজ করার বিনিময়ে প্রায় ২০ লাখ ইউরোর বেশি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
২০১৮ সালে ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সিটির সঙ্গে মানচিনির মূল বেতন ছিল বছরে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড। এর বাইরে আল-জাজিরার সঙ্গে আলাদা চুক্তিতে আরও প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড পাওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ ছিল, এই কাঠামোর মাধ্যমে উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতা নীতি বা এফএফপি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে মানচিনি ও ম্যানচেস্টার সিটি—দুই পক্ষই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও মানচিনি সিটিকে দোষী হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘ম্যানচেস্টার সিটি দোষী নয়’ এবং কথিত দ্বৈত চুক্তির বিষয়টি তার সমস্যা নয়।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে মূল মামলায় প্রিমিয়ার লিগের ১১৫টি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ১১৪টি অভিযোগে স্বাধীন প্যানেল ক্লাবটিকে দায়ী করেছে। তবে সিটি এই অবস্থান মেনে নেয়নি এবং জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি এখনো শেষ হয়নি।









