বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, জনতা-পুলিশ ব্যাপক সংঘর্ষ

0
46

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ডেলিভারি ও রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালক আফফান কুরনিয়াওয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর গাড়িচাপায় নিহত হন ২১ বছর বয়সী ওই তরুণ। এর পর ছাত্র, শ্রমিক ও মোটরসাইকেল চালকদের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন।

শুক্রবার দুপুর থেকে জাকার্তার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। কুইটাং এলাকায় ইন্দোনেশিয়ার পুলিশের বিশেষ বাহিনী মোবাইল ব্রিগেড কর্পসের সদরদপ্তরের সামনে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পাল্টা ইটপাটকেল ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। সন্ধ্যার পর জাকার্তা পুলিশ সদরদপ্তরের সামনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বিক্ষোভকারীরা মলোটভ ককটেল ও আগুন লাগানো বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

এদিকে আফফানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে দোষীদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো। একই সঙ্গে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। জাকার্তার গভর্নর নিহত চালকের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, দেশটির পুলিশের শৃঙ্খলা বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন সাত পুলিশ সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

রাজধানী ছাড়াও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সুরাবায়া, মেদান, বান্দুং ও সুরাকার্তা শহরেও। বিভিন্ন স্থানে ছাত্র ও মোটরসাইকেল চালকরা রাস্তায় নেমে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু দায়ী পুলিশ সদস্য নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তারা সংসদ সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটেরও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here