ইরান যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
3

মস্কো ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদি কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ট্রিটি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে ল্যাভরভের বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে ল্যাভরভ নিজে এএফপিকে বলেছেন যে, চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে ‘বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো। তবে বাকায়েই জানিয়েছেন সফরটি দুই দেশের মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টারই একটি অংশ।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থেমে আছে। গত অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে বলেছিলেন, মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রচিষ্টায় অংশ নিতে প্রস্তুত আছে।

বিশ্বের যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে আছে, সেসব দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে আছে রাশিয়া ও ইরান। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কও বেশ ঘনিষ্ঠ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে।

তার পথ ধরেই ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০ বছর মেয়াদী একটি ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তিটিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আরও নিবিড় সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে, তবে এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্যে দিয়ে গত ২৮ তারিখ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাচাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পরে উভয়পক্ষই যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে থেকে সরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের বলে দাবি করে আসছে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ২০

শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যেসব জাহাজ ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ অতিক্রম করছে, সেগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌপথে পাল্টা অবরোধ জারি রেখেছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ল্যাভরভের সফরে আলোচনার মূল বিষয় হবে “ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বেআইনি হামলার ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায়।”

কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, “এ যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here