অবরোধে ব্যাহত সাজেকের জনজীবন : দূর্ভিক্ষের হাতছানি

0
2

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় এ অমেয় সত্যবানী হয়ে দাড়িয়েছে আজ সাজেকবাসী কাছে। নেই বেচে থাকার জন্য খাদ্য,ঔষধ,শিক্ষা,চিকিৎসা সহ মানুষের বেচে থাকার কোন উপকরণ অনুসংঙ্গ। একটু খাবারের জন্য এখন আকুতি সাজেকের শিশু,কিশোর ভয়বৃদ্ধ সকলের মাঝে। এ যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুপূরীতে পরিনত হচ্ছে দেশে অন্যতম পর্যটক আকর্ষনীয় প্রাকৃতির নৈসর্গিক সাজেক ভ্যালি।

মানুষের মাঝে বেচে থাকার জন্য আর্তনাদ আর নিরব হাহাকার। কোন এনজিও সংস্থা, বয়াকৃতি সহয়তা, এমন কি সরকারি ভাবেও কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা পৌছাইনি এসব অসহনীয় দূর্ভোগে পড়া মানুযের কাছে।
৩ দফায় লাগাতার সড়ক অবরোধের ৭ম দিনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অবরুদ্ধ এখানের ৩০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সড়ক অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম।

হাটে -বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি নেই। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অবরোধের ৭ম দিনে সকাল থেকে সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন অবরোধকারীরা। এ পরিস্থিতিতে সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সাজেক থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবরোধের কারণে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।

সাজেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। গত ১১ অক্টোবর সংগঠন দুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ শুরু করে আসছে।

গত ২৬ অক্টোবর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সাথে উদ্ভূদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনের বৈঠকও বেস্তে গেছে কোন প্রকার সমঝোজতা না হওয়ায়। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর জেএসএস এর সদস্যদের অবস্থান রয়েছে। এসব সদস্যকে সরিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন আরেক সশস্ত্রগোস্ঠি ইউপিডিএফ মদদপুষ্ঠ নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটি ও হেডময়ান কার্বারী সংগঠন ব্যানারে অবরোধকারিরা।

অপর দিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। সাজেকে সম্প্রতি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯)। ধারাবাহিক গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরস্পরের আধিপত্যবাদের যাতাকলে পৃষ্ট হয়ে সাজেক অধিবাসীরা জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষনে।

এদিকে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবিতে সংলিষ্টজনদের মাঝে ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তারা প্রশাসনকে নানান আল্টিমেটাম দিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন করর্মসূচি ঘোষনায়। অবরোধের কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের পাশাপাশি সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here