পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট

0
17

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও আর কোনো অগ্রগতি নেই। আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (আইসিসি) ‘দেখি কী হয়’ নীতিতে হাঁটছে। যদিও আড়ালে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে আইসিসি।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে। আইসিসির পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী– টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। যথারীতি এমন ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের উন্মাদনার কমতি নেই। আইসিসিও আশায় ছিল বিরাট অঙ্কের মুনাফা পকেটে পুরবে। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে তাদের গুনতে হবে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, আইসিসি-পাকিস্তান-ভারত ইস্যুতে আপাতত সবকিছুই শান্ত– যেন ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা। বয়কট ঘোষণার তিনদিন পেরোলেও এই ঘটনায় অগ্রগতি হয়নি। তবে পাকিস্তানের বয়কটের ঘোষণাই হয়তো শেষ কথা নয়, যদিও সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে আসায় সেটি চূড়ান্তও হতে পারে। আবার পাকিস্তানের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না, গত বছর এশিয়া কাপেও যেমনটা দেখা গিয়েছিল।

ভারতের প্রতি আইসিসির এত বেশি টান কেন?
একইসঙ্গে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের দিন অনুপস্থিত থাকার মতো কোনো সিদ্ধান্তকে আইসিসি ও তার বোর্ডের সদস্যরা হালকাভাবে নেবে না। যার ফলশ্রুতিতে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রায় নিশ্চিত, যদিও তা ঘটবে ঘটনার পরপরই। এরই মধ্যে দু’পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে গোপন আলোচনার গুঞ্জন শোনা গেলেও এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের একাধিক গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে– আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) সঞ্জোগ গুপ্ত মুম্বাইয়ে গিয়ে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সম্প্রচারক জিওস্টারের মালিক মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যেখানে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সরে দাঁড়ানোর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যদিও ক্রিকবাজের তথ্যমতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জয় শাহ ও সঞ্জোগ গুপ্ত আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) আমন্ত্রণে গত কয়েকদিন ধরে ইতালির মিলানে অবস্থান করছেন। তারা অলিম্পিক গেমসের অন্তর্ভুক্ত সব আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪৫তম আইওসি অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তারা সুইডেনের স্বেনস্কা ক্রিকেটফরবুন্ডেট (এসসিএফ), জার্মানির ডয়চের ক্রিকেট বুন্ড (ডিসিবি) এবং জার্সি ক্রিকেট বোর্ডসহ কয়েকটি ইউরোপীয় সহযোগী দেশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে জয় শাহ ইউরোপীয় ক্রিকেট সংস্থাগুলোকে তাদের পরিশ্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং আইসিসির কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া ইউরোপজুড়ে ক্রিকেটের অগ্রগতি স্বীকার এবং উদীয়মান সহযোগী সদস্যদের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন বিসিসিআইয়ের সাবেক সচিব।

বৈঠকের পর সুইডিশ ক্রিকেটের চেয়ারম্যান তারিক জুওয়াক এই ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘ইউরোপের ক্রিকেট ফেডারেশনগুলোর কঠোর পরিশ্রম প্রশংসনীয়। ইউরোপে ক্রিকেটের সম্ভাবনা অনেক এবং আইসিসির নির্ধারিত প্রক্রিয়া, নীতিমালা ও উন্নয়ন পথ অনুসরণ করে সহযোগী সদস্যদের আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইসিসির নেতারা সংগঠিত উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, যাতে সহযোগী সদস্যরা বৈশ্বিক ক্রিকেট কাঠামোর ভেতরে স্পষ্ট অগ্রগতির পথ পায়। পাশাপাশি সঞ্জোগ গুপ্ত আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন ও উদীয়মান বাজারে ক্রিকেটের বিকাশে নতুন ফরম্যাট ও কাঠামো নিয়ে পরীক্ষামূলক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here