পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল—শেখ হাসিনা কি তার বাপের টাকায় করেছে? এই প্রশ্নটাই আসলে প্রমাণ করে—জেন–জি’র এক বড় অংশ রাজনীতি নয়, ইতিহাসই জানে না! তোমরা গ্রেট লিডারশিপ, গুড গভর্নেন্স শব্দগুলো নিয়ে ট্রল করো, কিন্তু বোঝো না দেশের উন্নয়ন কারোর পকেট থেকে আসে না। উন্নয়ন আসে রাষ্ট্রীয় নীতি, সাহসী সিদ্ধান্ত আর দীর্ঘমেয়াদি ভিশন থেকে।
শেখ হাসিনা বলেছিলেন—“আমি মানুষের হাতে হাতে মোবাইল দিয়েছি!” জেন–জি হেসে বলে উনি কি আমাকে মোবাইল কিনে দিয়েছেন? এই হাসির পেছনেই লুকিয়ে আছে ভয়ংকর অজ্ঞতা। এক সময় দেশে মোবাইল ছিল বিলাসিতা। এক লাখ টাকার ফোন। কারণ? বিএনপি নেতা মোর্শেদ খানের সিটিসেল—একচেটিয়া ব্যবসা। সাধারণ মানুষ ছিল বাজারের বাইরে।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা এসে দরজা খুলে দেন—একটেল, গ্রামীণ ফোন আসে, প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফোন নামে সাধারণ মানুষের হাতে। মজার বিষয় জানো? একটেলের মালিক বিএনপির সাবেক মন্ত্রী, গ্রামীণ ফোনের মালিকানাও কার—সেটা তো গুগল করলেই পাওয়া যায়। গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য বিশেষ সহায়তা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা!
আজ সেই রাজনৈতিক মূল্য আওয়ামীলীগের তৃণমূল ও শেখ হাসিনা দিচ্ছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপোষ করেননি। ইন্টারনেট? ১৯৯১–৯৬ সালে ফ্রি ইন্টারনেট কানেকশন আসছিল। বেগম জিয়া না করে দিলেন—দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে।
আর শেখ হাসিনা? রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে বাংলাদেশকে যুক্ত করলেন গ্লোবাল ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে। আজ যে স্মার্টফোনে বসে ট্রল করো—সেটার রাস্তাটা কে বানিয়েছিল? পদ্মা সেতুতে আসি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ঋণ বাতিল করল। নোবেলজয়ী ইউনুস, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, চাপ—সব এক সাথে। দুর্নীতির অভিযোগ? আন্তর্জাতিক তদন্তে একটাও প্রমাণ নেই। কিন্তু শেখ হাসিনা দমেননি! তিনি বলেছিলেন—“নিজের টাকায় করবো!” আর করেও দেখিয়েছেন! এই কারণেই পদ্মা সেতু কংক্রিট নয়— এটা জাতীয় আত্মমর্যাদা।
জেন–জি, জানো কি? এক সময় বিদ্যুৎ যেত না, বিদ্যুৎ আসত! খুঁটি বসানো হতো, বিদ্যুৎ না। সেখান থেকেই জন্ম নেয় “খাম্বা” উপাধি! টেন পার্সেন্ট মাসোহারা,পাঁচবারের দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সারের জন্য কৃষকের মৃত্যু, ৬৪ জেলায় একসাথে বোমা হামলা—এই ইতিহাস কি তোমরা জানো? ইতিহাস না জানলে, তুলনামূলক বর্তমান বোঝা যায় কি?
দেশ চালাতে লাগে দক্ষ মাঝি। কাল যদি তোমাকে বিল গেটসের চেয়ারে বসানো হয়—তুমি কি বিল গেটস হয়ে যাবে? আজ কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ—শেখ হাসিনার অভাব বোধ করে! জেন–জি,এই বোধদয় তোমাদের কবে হবে—সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তারপরও আমি আশাবাদী তোমরা আবার একাত্তরে ফিরে যাবে।
লেখক: মো: নজরুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।





