ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

0
24

আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের শহর। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ হেঁটে, বাস-লঞ্চে কিংবা ট্রেনে চেপে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত হয়েছিলেন।

ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল বিশাল সেই ময়দান। মানুষের ভিড়ে সেদিন রেসকোর্স ময়দান রূপ নিয়েছিল জনসমুদ্রে। আর সেই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন শেখ মুজিবুর রহমান।

পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ঐতিহাসিক এ ভাষণ পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্রে রূপ নেয়। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটি বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে এবং বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণার অনির্বাণ শিখা হয়ে অফুরন্ত শক্তি ও সাহস জুগিয়ে আসছে। এ ভাষণ শুধু রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় করিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ২০১৭ সালে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে একে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়াও এ ভাষণটি পৃথিবীর অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৩ সালে জ্যাকব এফ ফাইল্ড প্রকাশিত আড়াই হাজার বছরের বিশ্বসেরা যুদ্ধকালীন ভাষণের সংকলন উই শ্যাল ফাইট অন দ্যা বিচেস, দ্যা স্পিচ দ্যাট ইনস্পায়ার্ড হিস্টোরিতে এই ভাষণ অন্যতম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সাল পর্যন্ত দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলেও ২০২৫ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এমনকি পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুবিজুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ শেখ হাসিনা সরকার ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০২১ সালে দিবসটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। সরকার ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ দিবসটি বাতিল করে। একইসঙ্গে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটিও বাতিল করা হয়।

সদ্য নির্বাচিত সরকার দিবসটিকে এ বছর পালন করবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে ২০২২ সালে এবং ২০২৩ সালে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয়ভাবে দিবসটি পালন করেছে। বিগত সময় দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি নিজেদের মতো করতো পালন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here