তৈরি পোশাকের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী নোমান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স’ এর বিরুদ্ধে গাজীপুরে ২১ একরের বেশি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকদের পক্ষে এ অভিযোগ করেন তাদের আইনজীবী কাজল সরকার।
তার অভিযোগ, গাজীপুর মৌজা এলাকায় তার মক্কেলদের ‘বৈধ মালিকানাধীন’ প্রায় ২ হাজার ৩১০ শতাংশ (২১.১ একর) জমি ক্রয়সূত্র বা বৈধ দলিল ছাড়াই জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস। তারা ‘ক্ষমতার দাপট’ দেখিয়ে তার মক্কেলদের পৈত্রিক ও ক্রয় করা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কারখানা পরিচালনা করছে।
‘দখল করা এ জমি’ দেশের ২০টির বেশি ব্যাংকে জামানত হিসেবে রেখে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স ঋণ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কাজল সরকার। তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ‘ঋণ জালিয়াতি’ করা হয়েছে। “এই বিশাল দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছি।”
বিভিন্ন সময়ে ধীরে ধীরে এ বিশাল জমি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দখল করেছে অভিযোগ করে এই আইনজীবী বলেন, “আমরা তাদের নামে মামলা করেছি। তারা ভুয়া নামজারি বা খারিজ করার অপচেষ্টা করেছে। সেই জালিয়াতি চ্যালেঞ্জ করে তিনটি পৃথক খারিজ বাতিলের মামলা দায়ের করেছি।”
এছাড়া গাজীপুর দ্বিতীয় যুগ্ম জজ আদালতে জমি পুনরুদ্ধারে উচ্ছেদ মামলা করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২০ এপ্রিল এটির শুনানি হবে। এজন্য গ্রুপ ও তাদের বিভিন্ন মালিকদের নামে সমন জারি করেছে আদালত। জমির খারিজ চ্যালেঞ্জ করা মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ২২ এপ্রিল। তবে তিনটি মামলায় ঠিক কতজনকে আসামি করা হয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি। কাজল সরকারের দাবি, ১৮৫৩৭ নং সাব কবলা দলিল মূলে জমিটির প্রকৃত মালিক প্রয়াত আহাম্মদ আলী সরকার ও তাদের ওয়ারিশরা।
তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর তথ্য অনুযায়ী, ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স’ এর গাজীপুরের কারখানায় ৫ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। দুদকে মামলা থাকায় এটির নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ চৌধুরীসহ নোমান গ্রুপের কয়েকজনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্সের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল্লাহ্ চৌধুরী উল্টো সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া কাজল সরকারকে ‘প্রতারক’ বলে দাব করেন। ওই আইনজীবীসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতির কথাও বলেন তিনি।
শহীদুল্লাহ্ বলেন, “কাজল সরকারসহ সহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া ও অকার্যকর দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। ওই চক্র ভুয়া দলিল তৈরি, প্রতারণা এবং জাল আম মোক্তারনামা সৃষ্টির মাধ্যমে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্সের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তার দাবি, “গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পাগাড় মৌজায় অবস্থিত জমি নিয়ে নোমান গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা ও সম্মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। আমরা ১৯৬৩ সাল থেকে ব্যবসা করছি সেখানে। প্রথমে সংখ্যালঘু সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হলে বোর্ড অব রেভিনিউ এর অনুমোদন নিয়ে জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি।
“এ সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলায় আদালতে সোলেনামা দাখিলের মাধ্যমে রায় ও ডিক্রি জারি হয়। পরবর্তীতে জমি বৈধভাবে রেজিস্ট্রি করা হয় পাগাড় হাউজিং সোসাইটির নামে। এতে মোট প্রায় ৭৪ দশমিক ১৮ একর জমি হাউজিং সোসাইটির নিকট হস্তান্তরিত হয়। পরবর্তীতে পাগাড় হাউজিং সোসাইটির অংশীদার ও পরবর্তী মালিকদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেডসহ নোমান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ২৮ একর জমি কেনা হয়। ক্রয়ের পর থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও রাজস্ব সার্কেল থেকে নিয়ম অনুযায়ী নামজারি ও জমাভাগ সম্পন্ন করে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে।”
তার দাবি, “জমির মালিক আহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা স্বত্বহীন অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত মামলা আদালতে দায়ের হলে তা খারিজ হয়ে যায় এবং আপিল পর্যায়েও তা বহাল থাকে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাদের কোনো বৈধ স্বত্ব বা অধিকার নেই এবং তাদের দ্বারা সম্পাদিত সব দলিল অকার্যকর।”





