চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ধাপে ধাপে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি মাসেই আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি শুরু হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘এই বছরের মধ্যেই প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন করা হবে।’
ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কিডনি রোগীরা স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা পান।
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এখন থেকে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভাররা বিশেষ স্ক্রিনিং যন্ত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।
জন্মনিয়ন্ত্রণে জোর
পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও জোরদারের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দেশব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজলভ্যতা আবারও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা হাসপাতাল আধুনিকায়নের পরিকল্পনা
উপজেলা হাসপাতালের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, পরে সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রেয়ার কর্নার, আধুনিক প্যাথলজি বিভাগ এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
মানবিক সংকটে শিশুদের জন্য নতুন কর্মসূচি
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্প্ল্যাশ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডার প্রায় চার লাখ সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু-কিশোরের কাছে খেলাভিত্তিক শিক্ষা, মানসিক-সামাজিক সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া হবে।
আয়োজকেরা জানান, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এ বাস্তবতায় ৫ কোটি মার্কিন ডলারের অংশীদারত্বে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করা হবে।
বাংলাদেশে প্রকল্পটির প্রথম ধাপ ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য বয়সভিত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও জীবিকায়নের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আশ্রয়শিবির ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে খেলাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামিসহ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





