এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: একজনের মৃত্যুদণ্ড

0
5

সিলেটের আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এতে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিতরা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শাহপরান মাজার থেকে ফেরার পথে এক দম্পতির প্রাইভেটকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আটকে কয়েকজন যুবক তাদের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে দম্পতিকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের গাড়িও আটকে রাখা হয়।

ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। পরে তদন্তে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত বছর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর নির্যাতিত তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এমসি কলেজের এক অধ্যাপকসহ ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর নয় মাস ধরে চলা দেশের অন্যতম আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here