মিছিল নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

0
2

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তোরণ গেট হয়ে পলাশী মোড়ের দিকে এগিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ‘২০২৬ ব্যাচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ পরিচয়ে আন্দোলনরত প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি শেষে তারা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তোরণ গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

দুপুর প্রায় ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মিছিলটি ভিসি চত্বরের পূর্ব পাশে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়। কিছু সময় অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় তোরণ গেট হয়ে পলাশী মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের পেছনে ছাত্রদলের ৮০ থেকে ১০০ জন নেতা-কর্মী অবস্থান করছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাত্রদল নেতা-কর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগানও দিতে দেখা যায়।

আন্দোলনে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

তবে আন্দোলনকারীদের মধ্যেই পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ দেখা যায়। কেউ সচিবালয়ে যাওয়ার পক্ষে, কেউ শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার পক্ষে এবং কেউ শাহবাগমুখী কর্মসূচির পক্ষে মত দেন। ফলে এক পর্যায়ে কর্মসূচির পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণে তাদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here