শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে অবস্থান কী জানতে চাইলে সংসদের অজুহাত দেখিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মুঠোফোনে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমার ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় নেই। আমি ইন্টারভিউ দিব না, সংসদে প্রশ্নোত্তরের জবাব দিব। সংসদে প্রশ্নোত্তর দিয়ে নেই তারপর ইন্টারভিউ দিব।’
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করার প্রতিবাদে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার সায়েন্সল্যাব ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভে তারা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
সংসদে প্রশ্নোত্তর দিয়ে তারপর ইন্টারভিউ দিব, পদত্যাগের প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী
তিন দফা দাবিতে মিছিল নিয়ে শিক্ষা বোর্ড যাচ্ছেন একদল শিক্ষার্থী
নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ আগে সায়েন্সল্যাবের সড়কে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি’।
উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা পৌনে বারোটার দিকে উত্তরা ডিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
এদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ কর্মসূচী কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক- মিলনের পদত্যাগ’; ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’; ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’- এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবারের ভোগান্তির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।
অপরদিকে চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে পরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যন অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সব শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রীও।
দুপুর দেড়টার দিকে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, আপাতত যে অবস্থা আছে, দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত পর্যন্ত সবার মত নিয়ে পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।





