ভারতীয়দের আনতে সরকারের দ্বারস্থ বিসিবি!

0
4

ভারতীয় ক্রিকেট দলের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত করতে এবার সরকারের সরাসরি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এবং সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান সাইয়েদ ইব্রাহিম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়া যায়নি। ফলে সিরিজটি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না। এর আগে ২৯ জুলাই তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, বিসিবি সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তবে কিছু বিষয় বোর্ডের আওতাভুক্ত নয়, যে কারণে সরকারি পর্যায়ের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি স্থগিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে সিরিজটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও দুই দেশের বোর্ডের সম্পর্কের টানাপড়েনে তা ফের অনিশ্চয়তায় পড়ে। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলতে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কে আরও বেশি অবনতি ঘটে। তবে বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদ দুই দেশের এই শীতল সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির কারণে ছয় ম্যাচের এই সাদা বলের সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা ফের জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান জানান, ঢাকা ও নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। কূটনৈতিক এই উদ্যোগগুলোকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ভারত সিরিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বিসিবির সম্প্রচারস্বত্ব-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও। বোর্ড এখনো ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (ইওআই) চূড়ান্ত করে জমা দেয়নি। বিসিবি সূত্রের ধারণা, ভারত সফরের বিষয়ে নিশ্চিত সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here