কমনওয়েলথের পতাকা এবার ভারতের পথে

0
3

গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠান এখনো বাকি। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে পরবর্তী আসরের কাউন্টডাউন। ২০৩০ সালে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হতে যাওয়া কমনওয়েলথ গেমসের স্বাগতিক ভারত নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রস্তুতির প্রথম ঝলক দেখাতে গ্লাসগোকেই বেছে নিয়েছে। আর সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গুজরাটের বিশ্বখ্যাত উত্তরায়ণ আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসব।

গ্লাসগোর জন স্ট্রিটে গ্লাসগো ইন্ডিয়ানস অ্যাসোসিয়েশনের ৩০ জন শিশু স্কটল্যান্ড ও ভারতের পতাকার নকশা করা ঘুড়ি উড়িয়ে প্রতীকীভাবে আমদাবাদ ২০৩০-এর যাত্রার সূচনা করে। এই আয়োজনটি ছিল গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী উত্তরায়ণ আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসব থেকে অনুপ্রাণিত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ স্পোর্টের সভাপতি ড. ডোনাল্ড রুকারে, প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলিয়ার, ভারতের কমনওয়েলথ গেমস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পি টি ঊষা, প্রধান নির্বাহী রঘুরাম আইয়ার, কমনওয়েলথ গেমস স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী জন ডইগ, গ্লাসগো ২০২৬-এর স্বর্ণজয়ী স্কটিশ জিমন্যাস্ট রুবেন ওয়ার্ড এবং ভারতের লং জাম্পের রৌপ্যজয়ী মুরালি শ্রীশঙ্কর।

মুরালি শ্রীশঙ্কর বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমস আমার দেশে ফিরছে—এটি দারুণ রোমাঞ্চকর অনুভূতি। গ্লাসগোয় দেখেছি স্থানীয় মানুষ কীভাবে গেমসকে আপন করে নিয়েছে। ২০৩০ সালে আমরাও পুরো বিশ্বকে একই উষ্ণতায় স্বাগত জানাতে চাই।’

অন্যদিকে রুবেন ওয়ার্ড বলেন, গ্লাসগো ২০২৬ তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০৩০ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত গেমসে আবারও স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।

শুধু ঘুড়ি উৎসবই নয়, গ্লাসগোতে চালু করা হয়েছে ‘আমদাবাদ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’। সেখানে আগামী গেমসের সম্ভাব্য ভেন্যু, ক্রীড়া অবকাঠামো, গুজরাটের সংস্কৃতি এবং ভারতের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্বোধনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ কেন্দ্রটি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

রোববার গ্লাসগো ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হবে। হ্যান্ডওভার পর্বে ভারতের সংস্কৃতি, সংগীত ও নৃত্যের বর্ণিল পরিবেশনা থাকবে। এতে অংশ নেবেন বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড মানুষী ছিল্লার, সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন, সিদ্ধার্থ মহাদেবন, শিবম মহাদেবন ও ভূমি ত্রিবেদী। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সেতারবাদক ঋষভ রিখিরাম শর্মা এবং স্কটিশ পাইপার রস এইন্সলির যৌথ পরিবেশনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও আমদাবাদ ২০৩০-কে ঘিরে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমসকে ভারত শুধু একটি বহুক্রীড়া আসর হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি বড় মঞ্চ হিসেবেও দেখছে। গেমসে ১৫ থেকে ১৭টি খেলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেট, হকি, শুটিং, তিরন্দাজি ও কাবাডির মতো জনপ্রিয় খেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০১০ সালে দিল্লির পর দ্বিতীয়বারের মতো কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে ভারত। তবে এবারের আসর হবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০৩০ সালেই পূর্ণ হবে কমনওয়েলথ গেমসের ১০০ বছর। সেই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রথম প্রতীকী অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেল গ্লাসগোর আকাশে উড়তে থাকা রঙিন ঘুড়ির মাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here