গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অরুন কান্তি বিশ্বাস। তিনি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। ভারতে তীর্থ ভ্রমনের জন্য তিনি ২১ দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন মন্ত্রানালয়ে। কিন্তু. মন্ত্রানালয় তাকে ৫০ দিনের ছুটি দিয়েছে সৌদী আরবে হজ্বব্রত পালনের জন্য।
বিষয়টি নিয়ে দেশের সর্বত্র যেমন আলোচনার ঝড় উঠেছে, তেমনি ওই শিক্ষকসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকরা বিব্রত বোধ করছেন। বিষয়টি মন্ত্রানালয় দ্রুত সংশো্ধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারী করবে এমনটি প্রত্যাশা ওই শিক্ষকের।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করা ওই পরিপত্রে দেখো গেছে, গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে জারি করা আদেশে (স্মারক নম্বর- ৩৭.০০.০০০০.০৮.০১০.৪৩৪) ওই শিক্ষকের ছুটি মঞ্জুর করা হয়। আদেশে ২৫ জুলাই থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ হতে ৫০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই আদেশটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী কিভাবে হজ্বে যাওয়ার অনুমতি পেলেন? তাঁর করা আবেদনে তিনি ১ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভারতে ধর্মীয় উপসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন।
মোহাম্মদ শাহজাহান নামে এক ব্যাক্তি ফেসবুকে কমেন্টে লেখেন, সতিই এটা একটা বিশাল তামাসা। ঐ সরকারী আদেশে যাদের স্বাক্ষর আছে সবার দৃষ্টান্ত মূলক সাজা হওয়া উচিত।
শিক্ষক মির্জা মেহেদী হাসান ফেসবুক কমেন্টে লেখেন, আমি প্রথম ভেবেছিলাম তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন। কারণ এমন ভুল তাও রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে হতেই পারেনা। বিষয়টা জানার জন্য গোপালগঞ্জ সরকারী ফজিলাতুন্নেছা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমার প্রাক্তন সহকর্মী সুব্রত মিত্রকে ফোন করি।তিনি আমাকে খোঁজ নিয়ে জানালেন যে এটা শিক্ষাদফতরের একটি মহাভুল। এই অধ্যাপক আর এক বছর পর অবসরে যাবেন। তিনি ভারতবর্ষ ঘুরতে যাবার ছুটি চেয়েছেন কিন্তু ঐ দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের খামখেয়ালিতে এই অবস্থা। শুধু তাই নয় আমার মত সবাই ভেবেছে তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন। আর তিনি পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়।
গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যাপক অরুন কান্তি বিশ্বাস জানান, গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের ওয়েব সাইট থেকে তিনি তার ছুটি মঞ্জুরের চিঠিটি ডাউনলোড করে জানতে পারেন তাঁকে হজ্বে যাওয়ার জন্য ৫০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। চিঠি দেখে তিনি হতবাক হন।তিনি বলেন,এটি সম্ভবত মন্ত্রণালয় ভুল করে দিয়েছে। তাই তিনি আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় আরেকটি সংশোধনী চিঠি মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছেন বলে জানান।
গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মতিউর রহমান ঢাকায় অবস্থান করায় তার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়টি আমিসহ অনেকেই অবগত। সম্ভবত মন্ত্রণালয় ভুল করেছে। এটি আবার মন্ত্রনালয় সংশোধন করে দেবে বলে তিনি জানান।