কক্সবাজার প্রকৃতির সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত প্রবর্তন ও কক্সবাজারের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছে কোস্ট ট্রাস্ট ও কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম।
সোমবার ( ৪ জুন ) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলণে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, অধিক পর্যটকদের আগমনের কারনে হোটেলে পানির অতিরিক্ত চাহিদা, নোনা পানির অনুপ্রবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি প্রবাহ কক্সবাজার থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে ।এতে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরো জানান, মায়ানমার থেকে চলে আসা প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্থায়ীভাবে তাড়াহুড়ায় তৈরি করা পলিথিনের তাঁবুর মধ্যে। যেসব পাহাড়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে প্রায় সকল গাছ কাটা পড়েছে। ঘাস উঠে গেছে, ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধস ব্যাপক প্রানহানি সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় প্রবনতার বেশী রয়েছে। এখানে সবমিলে মাত্র ৫৮০০ একর জমিতে ২৩.৪ বর্গকিলোমিটারে অবস্থান নিয়েছে এক মিলিয়ন মানুষ । এতো ঘনবসতি কোনভাবে মানব জীবনের উপযোগী নয় । এতে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।বক্তারা জানান, রোহিঙ্গাদের প্রবেশের ৯ মাসে সামাজিক অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত যতটা ক্ষতি হয়েছে তা চলতে থাকলে ২০১৯ সালের মধ্যে ওই এলাকার বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
তারা জানান, এক গবেষণায় দেখা গেছে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া জনগণের রান্নার জন্য প্রতিদিন যে কাট পোড়ানো হচ্ছে। তাতে প্রতিদিন চারটি ফুটবল মাঠের সমান বনভুমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০১৯সালের মধ্যে আখিয়া ও টেকনাফের ভূমি বলে কিছু অবশিষ্ট থাকবেনা।
বক্তারা আরো জানান, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম গুলোর আশেপাশে অবস্থিত এবং সংযুক্ত মোট ২১ টি খাল সবগুলোর পানি দূষণ হয়ে গেছে। এ সব খাল থেকে বেশিরভাগ মানুষ কৃষি ও পারিবারিক দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করত। এখন তাদের জন্য ব্যবহার করা মরাক্তক হয়ে পরেছে। এবং এসব খাল বিল থেকে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে।
বক্তারা জানান, কক্সবাজারের টেকনাফের পরিবেশ রক্ষা করতে হলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদেরকে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে,, পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করতে হবে, রহিঙ্গা রিলিপ এর জন্য আন্তর্জাতিক বাজেটের একটা অংশ এই খাতে বরাদ্দ করতে হবে, এবং সকল খাল , বিলের পানির প্রকৃতি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, কক্সবাজারের জেলায় ব্যাপক বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম এবং বর্ষায় চালু করতে হবে
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড আতিউর রহমান, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী প্রমুখ