মিঠুন-মুশফিক জুটিতে বিপর্যয় কাটলো বাংলাদেশের

0
248

দ্রুত ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়েছে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে। দুই জনে চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।

আরেকটি ফাইনালের আশায় বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের সবশেষ তিন আসরের দুটিতে ফাইনালে খেলা বাংলাদেশের নজর আরেকটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। সেমি-ফাইনালে পরিণত হওয়া এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালেই ভারতের সঙ্গে ফাইনালে খেলবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

লেগ স্পিনার শাদাব খানকে রিভার্স সুইপ করে চার হাঁকিয়ে জুটির রান পঞ্চাশে নিয়ে যান মুশফিক। দলের বিপদে আরও একবার বুক চিতিয়ে লড়ছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

শুরুতে বেশ ভুগেছেন মিঠুন। দশম বলে রানের খাতা খোলার পর ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন তিনি। খেলছেন মুশফিককে স্ট্রাইক দিয়ে।

৭০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে চতুর্থ উইকেট জুটির রান। ১৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৬৩/৩। মুশফিক ৩৪ ও মিঠুন ১৬ রানে ব্যাট করছেন।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৩ উইকেট

পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে এই সময়ে হারিয়েছে তারা। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

১০ ওভার  শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। মুশফিকুর রহিম ১২ ও মোহাম্মদ মিঠুন ২ রানে ব্যাট করছেন। পাওয়ার প্লেতে ৪৬টি ডট বল খেলেছে বাংলাদেশ।

দলে ফেরা জুনায়েদ খান শুরুতেই এলোমেলো করে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। সৌম্য সরকারের পর আরেক ওপেনার লিটন দাসকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার।

অফ স্টাম্পে পড়ে সোজা আসা বল ব্যাটে খেলতে পারেননি লিটন। ব্যাটের কানা ফাঁকি দিয়ে অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেয় বল। ১৬ বলে ৬ রান করে ফিরেন লিটন।

৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১২/৩। ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী মোহাম্মদ মিঠুন।

টিকলেন না মুমিনুলও

এশিয়া কাপে আবারও ব্যর্থ মুমিনুল হক। তিনে নেমে দ্রুত ফিরেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

শাহনি আফ্রিদিকে ফ্লিক করে দারুণ এক বাউন্ডারি হাঁকানোর পরই বোল্ড হয়ে ফিরে যান মুমিনুল। অফ স্টাম্পের বাইরে পরে ভেতরে ঢোকা বল ব্যাটে খেলতে পারেননি তিনি। বল প্যাডে লেগে এলোমেলো করে দেয় স্টাম্প।

আগেরবার সুযোগ পেয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে করেছিলেন ৯। এবার ফিরলেন ৪ বলে ৫ রান করে।

৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১২/২। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।

শুরুতেই ফিরলেন সৌম্য

দলে ফেরা সৌম্য সরকার টিকলেন না। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যর্থতায় ১১ মাস পর দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলেতে নেমেছিলেন সৌম্য। বাঁহাতি পেসার জুনায়েদের শর্ট বল পুল করে উড়ানোর চেষ্টায় ফিরে গেছেন স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ দিয়ে।

৫ বলে শূন্য রানে ফিরেন সৌম্য। ৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫/১। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী দলে ফেরা মুমিনুল হক।

পাকিস্তান দলে আমিরের জায়গায় জুনায়েদ

সবশেষ ৬ ম্যাচে কোনো উইকেট না পাওয়া মোহাম্মদ আমির বাদ পড়েছেন। তার জায়গায় দলে এসেছেন আরেক বাঁহাতি পেসার জুনায়েদ খান। পাকিস্তানের একাদশে পরিবর্তন এই একটি।

পাকিস্তান একাদশ: ইমাম-উল-হক, ফখর জামান, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক, আসিফ আলি, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, হাসান আলি, জুনায়েদ খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান।

সাকিব নেই, বাংলাদেশ দলে ৩ পরিবর্তন

সেমি-ফাইনালে পরিণত হওয়া মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ পাচ্ছে না সাকিব আল হাসানকে। আঙুলে চিড় ধরায় ছিটকে গেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। বাদ পড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও নাজমুল ইসলাম অপু।

একাদশে ফিরেছেন মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার ও রুবেল হোসেন। পেসে শক্তি বেড়েছে বাংলাদেশের, কমেছে স্পিনে। দলে নেই কোনো বাঁহাতি স্পিনার।

বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকে হারিয়ে একজন বোলারের ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। ১০ ওভার অনিয়মিত বোলারদের দিয়ে করাতে হবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

পিচ রিপোর্টে রমিজ রাজা বলেছেন, ২৫০ রান লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট হবে।

পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ মনে করেন, পরে কন্ডিশনে খানিকটা পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশের লম্বা ব্যাটিং দ্রুত গুটিয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখতে চান তিনি।

এর আগে গ্রুপপর্বে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়া কাপের মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারতে হয়েছিল মাশরাফির দলকে। সুপার ফোরে ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের পর টুর্নামেন্টে টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় টাইগারদের সামনে। আফগানদের সুপার ফোরের ম্যাচে হারিয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখে মুশফিক-সাকিবরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here