সৈয়দ আশরাফের পদত্যাগপত্র না নিয়ে চিকিৎসার খরচ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

0
517
জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছেন। যার কারণে মন্ত্রণালয়ের তার উপস্থিতি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গেলেন সৈয়দ আশরাফ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এই ত্যাগি নেতার অতিসম্প্রতি ডিমেনশিয়া (ভুলে যাওয়া রোগ) দেখা দিয়েছে। তিনি সবকিছুই ভুলে যাচ্ছেন। অনেক কিছু মনে করতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর। ডিমেনশিয়ার কারণে চিনতে না পারার সমস্যাও হচ্ছে সৈয়দ আশরাফের। ক্যানসারের পাশাপাশি মূলত এ রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংককে গেছেন।
বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ। এজন্য তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতও করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে সৈয়দ আশরাফের পরিবার থেকে বলা হয়, এখন তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে চিকিৎসার সুবিধা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এতে অসম্মতি জানান।
দুঃসময়ের কাণ্ডারি আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না আমি আশরাফকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরাবো না। বরং তাঁর চিকিৎসার খরচ আমি দিচ্ছি। তোমরা তাঁকে নিয়ে যেখানে প্রয়োজন যাও, চিকিৎসা করাও।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের জন্য আমি যতদিন লাগে অপেক্ষা করব।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই সৈয়দ আশরাফকে থাইল্যান্ডে নিয়ে চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার সময় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই সাফায়েতুল ইসলাম, বোন রাফিয়া নূর রুপা, ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা ইসলাম। জানা গেছে, ব্যাংককের হাসপাতালে সৈয়দ আশরাফের দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা হবে।
জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তবে পিতার পরিচয়ে নয় নিজের সততা, নিষ্ঠা ও মেধার পরিচয় দিয়েই তিনি মানুষের মন জয় করেছেন। স্বচ্ছ ইমেজের জন্য পরিচিত সৈয়দ আশরাফ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও হত্যা করা হয়। পিতার মৃত্যুর পর আশরাফ যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং লন্ডনের টাওয়ারে হ্যামলেটে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
১৯৯৬ সালে আশরাফুল ইসলাম দেশে ফেরেন এবং ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সৈয়দ আশরাফ পাদ প্রদীপে আসেন ওয়ান ইলেভেনের সময়। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তখন আদর্শের পরীক্ষায় হাবুডুবু খাচ্ছেন। লোভের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছেন অনেকে। যখন প্রিয় নেত্রীর গ্রেপ্তারে হতবিহ্বল কর্মীরা। হতাশা, বিভক্তি আর অজানা আশঙ্কায় বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ। এসময় প্রয়াত জিল্লুর রহমান, বেগম মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে সৈয়দ আশরাফ শেখ হাসিনার পক্ষে এক অনবদ্য অবস্থান নেন। দলকে টেনে তোলেন খাদ থেকে।
বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আশরাফ এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here