পরিক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোটিপতি হলেন এক ব্যাক্তি,

0
244

পুলিশ জানায়, এই চক্রটি মূলত পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র (স্কুল বা কলেজ) থেকে শিক্ষক বা সহকারীদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পেয়ে তা দ্রুত সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত। ডিজিটাল ডিভাইস হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড আকৃতির খুদে মুঠোফোন, ব্লুটুথের মাধ্যমে এটা যুক্ত থাকে এয়ার ফোনের সঙ্গে। এর মাধ্যমে হলে বসে উত্তরপত্রের সমাধান পায় পরীক্ষার্থীরা।

১০ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ভর্তি ও নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুর

জনতা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান (৩৬) জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতি করে তিন বছরে ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ হিসাব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে প্রায় ৪০ জনকে গ্রেপ্তারের পর হাফিজুরের নাম পাওয়া যায়। গত ২৮ অক্টোবর হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তিন দিন রিমান্ডে থাকার পর গতকাল শুক্রবার তিনি ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, হাফিজুরের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে, যা তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে অর্জন করেছেন।

বিভিন্ন ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে গত বছর থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এর মধ্যে চলতি বছরের ৮ আগস্ট গ্রেপ্তার হন অলিপ কুমার বিশ্বাস, মো. ইব্রাহিম, আইয়ব আলী ওরফে বাঁধন, মোস্তফা কামালসহ নয়জন। এই চারজন একেকটি চক্রের হোতা। গ্রেপ্তারের ১০ দিনের মধ্যেই তাঁরা জামিন পেয়ে যান। সিআইডি বলছে, হাফিজুর এঁদেরও ‘বস’।

হাফিজুরের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, বাবা স্কুলশিক্ষক। পৈতৃক সম্পত্তি তেমন নেই। তবে গত তিন বছরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে তাঁর পৌনে সাত কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জালিয়াতি করে নিজের ছোট ভাই আবদুর রমজানকেও গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা বলেন, এই চক্রটি বিসিএস পরীক্ষায়ও একই কাজ করেছে বলে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হাফিজুর বলেন, বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে ২০১৪ সালে তিনি জনতা ব্যাংকে যোগ দেন। ওই বছরের শেষ দিকে মোস্তফা কামালের (৮ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়া) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ২০১৫ সালে মোস্তফার সঙ্গে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম জালিয়াতি করেন হাফিজুর। ২০১৬ সালে গুদামরক্ষক পদে চারজনের কাছ থেকে সাড়ে ১৫ লাখ টাকায় নিয়োগ পাইয়ে দেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসেও যুক্ত হন তিনি।

কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর হাফিজুরের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন জনতা ব্যাংকেরই এক নারী কর্মকর্তা। ওই মামলায় হাফিজুর গ্রেপ্তার হলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

আরো পড়ুনঃ
৪১ বছর বয়সে জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করলেন তিনি

বরিশাল প্রতিনিধি: ‘লেখা পড়ার বয়স নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই’ শিক্ষা গ্রহণের এই শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে ৪১ বছর বয়সে অষ্টম শ্রেণির (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উদাহরন সৃষ্টি করলেন আগৈলঝাড়ার হরষিত বাড়ৈ। অভাব-অনটনের কারণে শৈশবে স্কুলে যেতে পারেননি তিনি। ছোটবেলায় তার বাবা মারা যান। খেত-খামারে কাজ করে সংসারের হাল ধরতে হয়। অভাব-অনটনের কারণে প্রবল ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখলেও পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার।

পরীক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ জানান, চাকুরীর জন্য অন্তত একটি সার্টিফিকেট দরকার। তাছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি জীবনে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে বয়সে স্কুলে যাবার কথা ছিল, সে বয়সে পরিবারের হাল ধরতে হওয়ায় লেখাপড়া শিখতে পারেননি তিনি। যখন বুঝতে পেরেছেন যে, চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকুরীর আবেদন করতেও অন্তত অষ্টম শ্রেণির একটি সনদপত্র দরকার হয়। এই শিক্ষা থেকে তিনি স্কুলে ভর্তি হয়ে নিয়মিত পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বয়স হলেও পড়া লেখা কোন হাস্যকর ব্যাপার নয়; এই মূল মন্ত্র ধারণ করে তিনি রাজিহার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে কম্পিউটার এ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে ভর্তি হয়ে চলমান জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রবেশত্র জানুয়ায়ি তার জন্ম তারিখ ১জানুয়ারি ১৯৭৭।

ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে লেখাপড়া করা যায়। তার অনন্য উদাহরণ হরষিত। জ্ঞান অর্জনের জন্য বয়সের চেয়ে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে হরষিত লেখাপড়া করায় বর্তমান সমাজে দেশের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তার থেকে অনেকেরই শিক্ষা নেয়া উচিত।

৮ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজিহার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ বৃহস্পতিবারের শ্রীমতি মাতৃ মঙ্গল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিক্ষায় অংশ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাসের নজর কারেন পরিক্ষার্থী হরষিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here