সেই দিন বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদের চেয়, মোস্তাকের মন্ত্রী সভায় কে কে থাকছেন, কারা কোন মন্ত্রনালয় পেতে পারেন এবং রাষ্ট্রপতির শপথই ছিলো তখন মুখ্য সংবাদ।
সেই দিন বঙ্গবন্ধুর নিহতের ঘটনা ছোট আকারে প্রচারিত হলেও চেপে যাওয়া হয় তার পরিবারের সদস্যসহ বাকিদের হত্যার বিষয়টি।
এ বিষয়ে সাংবাদিক প্রবীর শিকদার একবার বলে ছিলেন, ‘আমরা দেখলাম মুহূর্তে নিষিদ্ধ হয়ে গেল জয় বাংলা। জিন্দাবাদে ভরে গেল দেশ। অনেক ‘মনীষী’ (বর্তমানে যাদের আমরা সু-শীল বলি) যোগ দিলেন খুনি জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে। কারও মুখেই তখন নেই আওয়ামী লীগ। জিন্দাবাদের দল গড়তে সে কী কসরত!
আউটার স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে প্রথম সমাবেশে জিয়া বললেন, ‘আওয়ামী-বাকশালীরা স্বাধীনতা চায়নি’। স্কুলের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বের সঙ্গে পড়ানো শুরু হলো ভাব-সম্প্রসারণ- ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’। ভাবখানা এমন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারছিলেন না! জিয়া এসে উদ্ধার করলেন।
যারা এভাবে দেশ পরিচালনা শুরু করেছিলো, আজ তারা যখন রাজনীতির গ্রামার শিখাতে আসে, ন্যায়ের কথা শিখাতে আসে, গনতন্ত্র শিখাতে আসে, তখন সত্যি আজব লাগে,অবাক হই। ধিক্কার জানাই এই গ্রামার শিক্ষকদের।