বিষের ছোঁয়ায় একটি সামাজিক আন্দোলনের মৃত্যু

0
170
Swadesh Roy-Dehinfo
Swadesh Roy-Dehinfo

স্বদেশ রায়: ফুলের মতো ছিল। মনে হয়েছিল রাস্তায় হাজার হাজার ফুল ফুটেছে। ফুলের যেমন নিজের কোন স্বার্থ নেই কেবল অন্যের জন্য গন্ধ বিলায়- এরাও ছিল ঠিক তেমনি। স্কুল ও কলেজের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল বেদনার্ত মুখ নিয়ে, চোখে কান্নার টলমল জল। না, নিজের জন্য নয় এ বেদনা, এ জল ছিল তাদের সহপাঠীর জন্য। তাদের সহপাঠী রাজপথে মারা গেছে। না, কোন আন্দোলনে, কোন দাবিতে এসে তারা মারা যায়নি। তারা মারা গেছে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়া সুন্দর দেশে।

যারা মারা গেছে তাদের পিতা-মাতা কোন বড় চাকুরে নয়, তারপরে তারা ভাল কলেজে পড়ছে। কারণ, রাষ্ট্র তাদের পিতা-মাতাকে সেই আয় করার পরিবেশ দিয়েছে। তাদেরও করে দিয়েছে পড়ার সুযোগ। তাই খুশি মনে কলেজে যাওয়ার পথেই হয় তাদের খুশির অবসান। দুটি বাসের উন্মাদ প্রতিযোগিতায় তারা মারা যায়। এই কষ্ট তাদের সহপাঠীদের সহ্যের নয়। সহপাঠীরা তীব্র বেদনা নিয়ে রাজপথে নেমে পড়ে। ২৯ জুলাই তারা যখন রাজপথে নামে তখন তারা কয়েকটি রাস্তায় ছিল। ৩০ ও ৩১ জুলাই তারা রাজধানীর নানান স্থানে।

কয়েকটি স্থানে ঘুরে ঘুরে তাদের মুখ দেখেছি। তাদের মুখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেছি। না, বাস চাপায় মারা গেলে তাদের কোন ক্রোধ নেই আমার ছোট যানবাহনটির ওপর। বার বার চেয়ে চেয়ে দেখেছি সন্তানদের মুখগুলো। ভাল লেগেছে এই ভেবে, এই লোভ ও যুদ্ধ উন্মাদনা ও পশ্চাৎপদ চিন্তার পৃথিবীতে তাদের মুখে ভালবাসার বেদনা। তাদের এই বেদনার ভেতর একটা সুন্দর বাংলাদেশের ভবিষ্যত দেখা যায়।

কেন তুমি পারবে না:
মনে মনে ভাবি কী হতে পারে তাদের মুখের ভাষা। আমরা যখন রাজপথে ছিলাম, তখন তো আমাদের মুখের ভাষা, শরীরের ভাষা ছিল একটাইÑ ‘সামরিক সরকারের পতন চাই’। না, এখানে সে ভাষা নয়। নতুন ভাষা। গণতান্ত্রিক, সুখী ও সমৃদ্ধ দেশের সন্তানদের ভাষা। বড় নতুন লাগল এ ভাষা দেখে। আন্দোলনে এ ভাষা এর আগে কখনও এ ভূখ-ে দেখিনি। যেমন করে মায়ের কাছে সন্তান দাবি জানায় তেমনি করেই যেন ওই বেদনার্ত মুখগুলো দাবি জানাচ্ছে, তুমি নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পার, তুমি ফ্লাইওভার করতে পার একের পর এক- তুমি এলিভেটেড এক্সপ্রেসের কাজ শুরু করেছ, মেট্রোরেলের কাজ শুরু করেছ, তুমি আমার বাবা-মায়ের আয় বাড়িয়ে দিয়েছ, আমি বিদেশী চকলেট খাচ্ছি- অথচ তুমি আমাকে রাস্তায় নিরাপত্তা দিতে পার না? আমি রাস্তায় নিরাপত্তা চাই, আমি নিরাপদ সড়ক চাই। নিরাপদ সড়ক যে কতটা দরকার তা প্রতিটি পিতা-মাতার বুক বুঝতে পারে। যতক্ষণ সন্তান রাস্তায় থাকে বা দূরে কোথাও যায় ততক্ষণ কি যেন একটা অজানা আশঙ্কায় বুক দপ দপ করে। এ এক কঠিন বেদনা বুকের। এখানে সবাই সমান, এখানে বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী সকলে একই রকম কাতর থাকে।

ওরা বনপুষ্প:
এই যে রাজপথে মৃত্যু এর জন্য সব দায় দরিদ্র ড্রাইভারদের ওপর চাপানো যায় না। কারণ, দেশ সমৃদ্ধির পথে- তবে এখনও তো শতভাগ হয়নি। এখনও আরও বিশ বছর এমন উন্নয়নের শাসন লাগবে শতভাগে যেতে। তাই এখনও হাজার হাজার ছেলে দরিদ্র। তাদের পিতা-মাতারা পরিকল্পিত পরিবার মানে না। সমাজের এক শ্রেণীর স্বার্থবাদী পশ্চাৎপদরা, তাদের ভেতর এক অন্ধ বিশ্বাস ঢুকিয়ে তাদের সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র বানিয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের হাজারটি উন্নয়নের কাজ থাকলেও এখানে আছে নব্বই ভাগ ব্যর্থতা।

রাষ্ট্র পরিকল্পিত পরিবারের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে সত্যি অর্থে কোন কাজ করছে না। যার ফলে এক শ্রেণীর মানুষ জন্ম দিচ্ছে অনেকগুলো সন্তান। যা তাদের লালন পালনের সাধ্যের বাইরে। তাদের সন্তানদের বালক বয়সে, কিশোর বয়সে নেমে আসতে হচ্ছে নিজের দুু’মুঠো ভাত নিজে যোগাড় করার জন্য। রাস্তায় আমাদের যে সন্তানরা ফুলের মতো নেমে এসেছিল। যারা টিফিন হলেই বক্স খুলে নানান খাবার খায়। যাদের হাতে আমরা বাবা-মায়েরা বিদেশী চকলেট তুলে দেই। চকলেট পেয়ে মুখটা যখন খুশি হয় তখন একটা দোলা লাগে পিতা-মাতার প্রাণে। মনে হয় একটি স্বর্গীয় হাসি দেখলাম।

আমাদের এই সন্তানদের মতো ওই যারা বালক ও কিশোর বয়সে দু’মুঠো ভাতের জন্য কঠিন কাজে নেমে আসে ওরাও কিন্তু আমাদের সন্তান। ওরা বাসের বা লেগুনার স্ট্যান্ড ধরে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকে, ঝুলতে থাকে। ওদের শরীরে অনেক ময়লা। কখনও কখনও ছিটকে পড়ে মারা যায়। ওরা বনপুষ্প। তাই ওরা মারা গেলে কখনও সে সংবাদ উড়ে আসে না দৈনিক সম্পাদকের টেবিলে। ধরা পড়ে না চকিত গতির টেলিভিশনের ক্যামেরায়। এই যে বালক ভাতের দায়ে হেলপার হচ্ছে, এই যে কিশোর ড্রাইভার হচ্ছেÑএর সবটুকু দায় ওদের নয়। আবার তাদের চালানো গাড়িতে চাপা পড়ে যে মারা যাচ্ছে মানুষ তার দায় সবটুকু ওদের নয়।

এ দায় কার ঘাড়ে:
যারা একটু দেশের খোঁজ খবর রাখেন, তারা জানেন এ দায় কার? রাজপথে পরিবহন চালিয়ে যে মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করছে আর যার সঙ্গে আছে সব রাজনৈতিক দলের এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদের যোগাযোগ তাদের অন্দর মহলটিতে যেতে পারলে দেখা যাবে কী অসাধু চক্র আর কী সীমাহীন শোষণ রাজপথের এই বেহাল দশার জন্য দায়ী। এই রাজপথকে ঠিক করার জন্য ১৯৮৩ সালে সামরিক শাসক হলেও এরশাদ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আইন প্রণয়ন করেছিলেন, মৃত্যুদ-ও রেখেছিলেন। সে আইন কেন সেদিন বাতিল হলো? কারা ছিলেন মূলত এই আইন বাতিলের মূল আন্দোলনে।

বাস্তবে কোন্ অসাধু চক্র সেদিন এই আইন বাতিল করতে বাধ্য করে তার অন্দর মহলের খুঁটিনাটি সাংবাদিকদের ভেতর সব থেকে ভাল লিখতে পারবেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। সেদিন যে কমিউনিস্ট পার্টির শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা মঞ্জুরুল হাসান খানের নেতৃত্বে গড়ে তোলা আন্দোলনের ফলে এরশাদ ওই আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিলেন- তখন ওই কমিউনিস্ট পার্টির নীতি নির্ধারকদের একজন ছিলেন মতিউর রহমান।

তাই তার মতো সবিশেষ আমরা কেউ জানি না। আজ যে যতই বড় কথা বলুক না কেন, এ পাপ আমাদের সকলের। দিনে দিনে আমরা এ দেনা বাড়িয়েছি। আমিও সেদিন রাস্তার এমনই একটা ধুলো বালি ছিলাম, তারপরেও আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলাম। তখন আমরা জানতাম না এই আন্দোলনের অন্দর মহলের স্রোতে শ্রমিক নেতাদের, এক শ্রেণীর কমিউনিস্ট নেতাদের, বুর্জোয়া নেতাদের লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির স্রোত আছে।

সাধারণ মানুষ ওপর থেকে কেবল জেনেছিল, শ্রমিক রাজ কায়েমের জন্য আন্দোলন হচ্ছে। ওই যে চাঁদাবাজিমুখী স্রোত ধারা তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। বরং পরিবহন খাত বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আকার বড় হয়েছে। এবং এরা আগে ছোট দানব ছিল এখন আরও বড় দানব হয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলেই এদের নিয়ন্ত্রণ করার আইন তৈরি করতে পারে না। এদের সাজা দিতে পারে না। বরং জানার পরেও সরকার এদের অনেককে খাজনা দিয়ে চলে। তাই যতক্ষণ সরকারকে এদের খাজনা দিতে হচ্ছে ততক্ষণে এখান থেকে দেশকে বের করার কোন পথ নেই। আবার শুধু রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে এদের দমন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে শুরু করে জামায়াতে ইসলামী অবধি সব দলের যে কাঠামো তাতে কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে এদের গায়ে হাত দেয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশে এ চক্র ভাঙতে পারেন একমাত্র ব্যক্তি শেখ হাসিনা। কারণ, তিনি তাঁর সংগঠনেরও উর্ধে। আরও সোজা কথায় বাংলাদেশের যে কোন সংগঠনের চেয়ে একক শেখ হাসিনা অনেক বড়। তাই তার হাত শক্তিশালী হলে তিনিই পারতেন এই চক্র ভাঙতে।

সুযোগ এবার এসেছিল:
শেখ হাসিনার এই হাতকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক শক্তির বাইরে সামাজিক শক্তিকেই তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। এবার ঢাকার রাস্তায় যে ফুলের ঢল নেমেছিল এরাই ছিল সেই সামাজিক শক্তি। ২৯, ৩০ ও ৩১ জুলাই যারা রাজপথে ছিল যদি এরাই রাজপথে থাকত, ঢাকাকে অচল করে না দিয়ে কোন একটি স্থানে সুসংগঠিত হয়ে থাকত- তাহলে এই সামাজিক শক্তি হতো শেখ হাসিনার জন্য একটি বড় সুযোগ, শেখ হাসিনা যে আইন করেছেন এই আইন শুধু নয়, তিনি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারতেন পরিবহন সেক্টরের ওই অসাধু চক্র ভাঙ্গার।

কিন্তু এখানে দুটি বিষয় সব কিছু ওলট পালট করে দিল। যার প্রথমটি হলো মিডিয়ার একটি অংশ, যে সামাজিক আন্দোলন পরিবহন সেক্টরের পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে তাকে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত করার কাজে নেমে পড়ল তারা। অন্যদিকে এই আন্দোলনের ভেতর ঢুকে গেল জামায়াত ও বিএনপির কর্মীরা, তাদের জঙ্গী সন্ত্রাসীরা। যার ফলে বুধবার বিকেল থেকে শুরু হলো আন্দোলনের চরিত্র বদল। বৃহস্পতিবার এর স্বতঃস্ফূর্ততার বদলে এল একটি পরিকল্পিত জঙ্গী ও আইন হাতে তুলে নেয়ার রূপ। যার ভেতর দিয়ে সব থেকে বড় ক্ষতি হলো শেখ হাসিনার।

কারণ, তাঁর পদ্মা সেতু, তাঁর ফ্লাইওভার, তাঁর মেট্রোরেল, তাঁর এলিভেটেড এক্সপ্রেস সবই তো সমস্যার মুখে পড়ে যাবে এই পরিবহন সেক্টরকে সঠিক পথে আনতে না পারলে। তাই তাঁর জন্যই সব থেকে বেশি দরকার ছিল এই সামাজিক আন্দোলনটির। কিন্তু পুষ্পে যখন কীট নামে তখন তো পুষ্প শুকিয়ে যাবেই। রাস্তায় নামা ফুলগুলোর ওপর কীটের মতো দংশন করল জামায়াত ও বিএনপি। শুকিয়ে গেল রাস্তার ফুলগুলো।

ক্ষতি হলো বাংলাদেশের। তবে দেশের মানুষ আরেকবার দেখল বিএনপি-জামায়াত কত বড় বিষ। যার ছোঁয়া লাগলেই যে কোন সুন্দরের অপমৃত্যু ঘটে। জামায়াত যে বিষ তা ১৯৭১ এ প্রমাণিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, এখনও এদেশের রাস্তায় শিবির নামে। এখনও এ দেশের কিছু ঘরে শিবিরের জন্ম হয়। এখনও শেষ হয়নি পাকিস্তানী রক্ত- যা রাজাকার পরিবারে পাকিস্তানী সেনারা প্রবাহিত করে গেছে। খালেদাও কি তার বাইরে?

কে এই খালেদা জিয়া:
কে এই খালেদা জিয়া তার সত্যি পরিচয় উঠে এসেছে বিডিনিউজ২৪ডটকমে ২৬ জুলাই আপলোড হওয়া সালেক খোকনের নেয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর শওকত আলীর সাক্ষাতকারে। সে সময়ের ছাত্র শওকত আলী তার চট্টগ্রামের যুদ্ধ দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “ওই সময় একদিন আমাকে ডেকে পাঠালেন মেজর জিয়াউর রহমান। স্টুডেন্ট হওয়াতে কেউ সন্দেহ করবে না। তাই বেগম জিয়াকে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেন আমায়।

জিয়াউর রহমান বলেন, তোমার ভাবি আর তারেককে আনতে হবে।
বললাম, স্যার একলা যেতে পারব না।
তিনি বলেন, তুমি কাকে কাকে নেবে?
বলি – মিনিমাম ছয়জন লাগবে।
বেগম জিয়া থাকতেন রোড ফোরে, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে। দোতলা ওই বাসা এখনও আছে। আমাকে একটা চিঠি লিখে দিলেন জিয়াউর রহমান। তাতে লেখা ছিল ‘পুতুল, পত্রবাহকের সঙ্গে ছেলেকে নিয়ে চলে আস।’

ব্রিটিশ স্টেনগান লোড, সিঙ্গেল শট, র‌্যাপিড ফায়ার- এগুলো তখন শিখে গেছি। রিভলবারও চালাতে পারতাম। ওগুলোসহ কিছু গ্রেনেডও সঙ্গে নিলাম। বাজারের ব্যাগের ভেতর অস্ত্রগুলো। সবার পরনে লুঙ্গি গেঞ্জি। চেনার উপায় নেই। রোড নম্বর টু পেরিয়ে থ্রি ধরে এগোচ্ছি। ফোরের কাছাকাছি আসতেই থমকে গেলাম। কখন যে পাকিস্তানীদের থার্ড কমান্ডো ব্যাটেলিয়ান ঢুকে গেছে, টেরই পাইনি। দেখলাম দুজন সেনা পেট্রোলে বেরিয়েছে।

তখন আমরা পরিকল্পনা পাল্টাই। লুকিয়ে পেছন দিক দিয়ে বেগম জিয়ার বাড়িতে ঢুকি। দরজা নক করতেই তিনি নিজেই দরজা খোলেন। দেখে চিৎকার করার আগেই ঈশারায় চুপ থাকতে বলি। অতঃপর হাতে তুলে দেই জিয়াউর রহমানের চিঠিটি। জিয়ার চিঠিটি বেগম জিয়া পড়লেন। অতঃপর যে কথাগুলো বললেন, দ্যাটস ভেরি ইম্পর্টেন্ট।

তিনি রেগে বললেন- আমি যাব না। জিয়া একটা গাদ্দার। কমিশনড নেয়ার সময় পাকিস্তানের ফ্ল্যাগ আর কোরান শরীফ ধরে সে শপথ করেছিল- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু করবে না। আর আজ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই সে বিদ্রোহ করেছে। আমি ওই বিদ্রোহী জিয়ার কাছে ফিরে যাব না।

অতঃপর তিনি বলেন- আমি তোমাদেরও ধরিয়ে দেব। আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। দেখলাম বাড়ির গেটে পাকিস্তানী আর্মি দাঁড়িয়ে আছে। তখন বিনয়ের সঙ্গে বললাম, ‘স্যার আমাদের অর্ডার করেছেন। তাই আসছি। চাইলে আপনি ধরিয়ে দিতে পারেন।’ কী চিন্তা করে যেন বেগম জিয়া আমাদের ছেড়ে দিলেন। বললেন, ‘ঠিক আছে তোমরা যাও।’ সাত জনই ফিরে জিয়াউর রহমানকে সব খুল বললাম। উনি তখন খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন।”

(মেজর শওকত আলীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর প্রতীক মেজর শওকত আলী। আর্মি নম্বর ছিল বিএসএস ৭২৮)।

যাহোক এর পরে আর নিশ্চয়ই কোন মানুষের প্রশ্ন থাকা উচিত নয়, খালেদা জিয়া পাকিস্তানী না বাংলাদেশী। তাই এই পাকিস্তানী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের দলের লোকদের দ্বারা বাংলাদেশের কোন ভাল হতে পারে না এবং কতটা নষ্টামি করে, কীভাবে গুজব ও চাপাতি নিয়ে তারা বাংলাদেশের একটি সুন্দর সামাজিক আন্দোলনকে ধ্বংস করে দিল তা দেশের মানুষের এখন উপলব্ধি করা প্রয়োজন এবং তারা আবারও প্রমাণ করল, বাংলাদেশে যতদিন বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে ততদিনে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল থাকবে।

swadeshroy@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here