নিরাপরাধ শিক্ষার্থীে ওপর চলছে র‌্যাব-পুলিশেে ক্র্যাক-ডাউন:রিজভী

0
150
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের সহিংস অপকর্ম ঢাকতে এবং প্রতারণা আড়াল করতে সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ণ অত্যুগ্র মাত্রায় উপনীত করেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,’দলীয় পান্ডাদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাক-ডাউন।
বৃহস্পতিবার(৯ আগস্ট)নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন,’শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ১৮ থানায় ৩৫টি মামলা দেয়া হয়েছে, যে মামলায় অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের জড়িত করা হবে এবং ইতিমধ্যে ৪৫ জনকে আটকের কথা পুলিশ স্বীকার করেছে এবং ২২ জন রিমান্ডে আছে। নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের আটক করার পর  কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে। গতকাল সারাদেশ জুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হানাদারি অভিযানে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন।
তিনি বলেন,’আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্কুল-কলেজের পড়ূয়াদের অভিভাবকরা অজানা আতঙ্কে উৎকন্ঠিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের ক্রোধের আগুনে পড়া পড়ূয়া সন্তানদের ওপর কি বিভীষিকা নেমে আসবে তা নিয়ে শিহরিত হয়ে উঠেছে অভিভাবকরা। গতকাল বসুন্ধরাসহ ঢাকা মহানগরীতে হাজার হাজার সরকারি বাহিনীর সদস্যরা চিরুণী অভিযান চালিয়েছে। অরাজনৈতিক কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমানোর জন্যই পুলিশ রাতভর সমগ্র বসুন্ধরা এলাকা আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন,’রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সামাজিক অগ্রগতি ও সভ্যতার শত্র” বর্তমান একদলীয় আওয়ামী সরকার। এরা মানসীক বৈকল্যগ্রস্থ, ক্ষমতায় থাকার জন্য শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করেনি। শিশু-কিশোরদের জেগে ওঠাতে ভয় পেয়েছে সরকার। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রচলিত আন্দোলন নয়, এটি ভিন্ন ধারার প্রতিবাদের এক অনন্য স্বতন্ত্র রুপ। সরকার এখন প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। কিন্তু এই জাগরণতো বন্ধ করা যাবে না। শিশুদের জাগরণের ঢেউ লেগেছে শহর থেকে গ্রামে আনাচে কানাচে। এই জাগরণ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। যতোই যড়যন্ত্র ও তৎপরতার  কথা বলুক না কেন আওয়ামী নেতারা, দুঃশাসনের বিদায়ের বাঁশি বাজতে শুরু করেছে।
দেশে নানা অশুভ খেলা চলছে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন,’ ওবায়দুল কাদের  বলেছেন দেশে নাকি নানা অশুভ খেলা চলছে। আমি আওয়ামী সাধারণ সম্পাদককে মনে করিয়ে দিতে চাই, দেশে অশুভ সরকার থাকলে জনগণ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে খেলায় অবতীর্ণ হয় তা প্রকাশ্য ও ন্যায় সঙ্গত। অশুভ সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সমালোচনা, প্রতিবাদ, প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে জনগণের পক্ষের শক্তির শুভ খেলা। এখানে কোন অদৃশ্য খেলা নেই। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন ন্যায্য ও বিবেক জাগনিয়া, তারা গোপন কিছু করেনি, তাদের আন্দোলন প্রকাশ্য ও জনসমর্থিত। কিন্তু তাদের আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কাদের সাহেবরা প্রথম কয়েকদিন করুণামাখা কথা বলছেন। সরকারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় সবাই বলেছেন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি ন্যায় সঙ্গত। তাহলে এখন তাদের ওপর এই সহিংসতা কেন?
তিনি বলেন,’জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিডিয়া, উন্নয়ন সহযোগী দেশ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের এই সশস্ত্র হামলাকে সহিংস হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ছাত্রলীগ আন্তর্জাতিকভাবে টেরোরিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা সেই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বাঁচাতেই হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে তামাশা করছেন। তাদের বাঁচানোর পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু এরা রেহাই পাবে না।
রিজভী আরও বলেন,’নির্যাতিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পূর্ন আলোকচিত্রি ড. শহিদুল আলমকে উচ্চ আদালত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সরকারী প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ সরকারের হুকুমে তাঁকে ভর্তি নেয়নি। এরা কতটা নিষ্ঠুর যে, একজন নির্যাতনে অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালেত আপিল করেছেন, যেন শহিদুল আলম হাসপাতালে সুচিকিৎসা না পান। এই ঘটনায় আবারো কি প্রমাণ  করার দরকার আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই পিজি হাসপাতালে সুচিকিৎসা পাবেন?
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী,যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ,সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন,বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here