বিএনপির কাউকে একটা ফুলের টোকাও দেই নাই

0
264

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, তারা যদি অতীতের মত কর্মকান্ড করে তাহলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এমন কিছু করার চিন্তা করবেন না। ভোটের সময় ভোট চাইবেন কোন সমস্যা নাই। বিএনপির অনেকে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছে। উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় আনবেন না। আমরা কিন্তু বিএনপির কাউকে একটা ফুলের টোকাও দেই নাই। কারো সাথে খারাপ আচরণ করিনি বরং বিএনপির লোক নিয়ে কাজ করেছি।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাইলট স্কুল মাঠে একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর বিএনপির লোকজন আমার অনেক নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেছে এবং হত্যা করেছে। এছাড়াও আমার ভাই হওয়ার অপরাধে সেলিম ওসমানের ফ্যাক্টরিতে হামলা করা হয়েছিল। খামারের গরুর বান কেটে ফেলা হয়েছিল। এমনকি আমার বাড়ি হীরা মহলে আগুন দেয়া হয়েছিল। ঐ সময় আমার দলের অনেক নেতাকর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছিল। তাদের অত্যাচারে নেতাকর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারেনি। তারপরও আমি বিএনপির কাউকে কিছু বলিনি। আমাদের সরকারের আমলে বিএনপির লোকজন শান্তিতে বসবাস করছে এবং এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করছে। কারণ নেত্রী আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে ভালোবাসা দিয়ে সবার মন জয় করতে হয়। আঘাতের বিনিময়ে আঘাতকারীদের ভালোবাসা দিয়ে মন জয় করেছে ওসমান পরিবার।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান আমার সাথে মিলে মিশে কাজ করে গেছেন। তারপরও ভিন্ন চিন্তা করবেন না। পুরনো কথা মনে করাবেন না। পুরনো বুকের জ্বালা তুলবেন না। যদি পুরনো জ্বালা বুকে তুলে দেন তাহলে পরিণতি ভাল হবে না। আমার কাছে খবর আছে অস্ত্র কেনার জন্য চেষ্টা করছেন। এমন কিছু কইরেন না, জনগণ আপনাদের ছাড় দিবে না। তখন কিন্তু আমাকে দায়ী করতে পারবেন না।

আ’লীগ নেতা বলেন, আমি টাকা দিয়ে এবং মানুষকে ধোকা দিয়ে ধান্দাবাজি করে নির্বাচনে ভোট চাইবো না। আমি অভয় দিচ্ছি, না বুঝে কাউকে সমর্থন করবেন না। নির্বাচন আসছে অনেকেই এসে নাটক করবে, মসজিদ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা অনুদান করবে। কিন্তু আমি বলছি কারো ধোঁকাবাজিতে পা দিবেন না। মনে রাখবেন আপনার এলাকার জনপ্রতিনিধি ভুল ব্যক্তি হলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বেড়ে যাবে। দেখেন আমার দলের এমপি মসজিদের টাকা খেয়ে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ হলে যে কেউ ভালো হবে তা আমি বলতে পারবো না। ভালো মন্দ সবার মধ্যে রয়েছে। প্রতীকের চিন্তা না করে আগে ব্যক্তিকে চেনেন। মন থেকে ধানের শীষের কথা বাদ দিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিতে বসবাসের কথা ভাবেন।

ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা সভায় ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সানাউল্লাহ, সাংগঠনিক সস্পাদক মীর সোহেল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রফেসর শিরিন আক্তার, জেলা জজ কোটের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএ আউয়াল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, থানা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সস্পাদক আনোয়ার হোসেন, থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সস্পাদক এমএ মান্নান, আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা শেষে ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন শামীম ওসমান। তিনি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষের সাথে কুশল বিনিময় করে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।

এদিকে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনারা ষড়যন্ত্র করলে এবার ছাড় পাবেন না। কারও বাড়িতে যদি এবার আঘাত করা হয় তাহলে আমরা বসে থাকব না। এখানে যদি আঘাত করা হয় তাহলে ঢাকায় গিয়ে আঘাত করে আসব। যতবার নারায়ণগঞ্জ জেগেছে ততবার সারাদেশ জেগেছে। এটা ইতিহাসের সাক্ষী। নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক আন্দোলন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে জাগরণ শুরু হবে। শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসবে।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ‘ড. কামাল সাহেব আমরা কী স্টুপিড। আপনি তাই ভেবেছেন। আপনি বলেছেন ২০ দলের সঙ্গে ঐক্য হয়েছে, কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য হয়নি। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হয়েছে কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে না। এসব শুনে আমার লজ্জা লাগে ড. কামাল সাহেব।’

তিনি বলেন,  ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য হয়েছে। কামাল সাহেবরা বিএনপিকে ব্যবহার করছেন। আর বিএনপি ভাবছে ড. কামাল সাহেবকে ব্যবহার করছেন। যেন দুই শয়তানের লড়াই হচ্ছে।’

শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইরে একেএম সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ মির্জা ফখরুল আর ড. কামালরা এখন নির্বাচনের জন্য মাঠে নামেননি। তারা মাঠে নেমেছেন নির্বাচনকে বানচাল করতে। বিএনপি জানে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। সে কারণে নির্বাচন থেকে তারা সরে যেতে চায়। তারা এমন কিছু ব্যক্তিকে কাছে টেনে নিয়েছে যারা ওয়েস্টার্ন কান্ট্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ব্যবহার করে কিছু একটা করতে চাইছে তারা।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা প্রস্তুত থাকেন। এই লড়াইয়ে আমরা জিতব। আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। আবারও ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ।’

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘ড. কামালদের বলছি, যদি মনে করেন আমাদের ওপর আঘাত করবেন, করেন। আপত্তি নাই। কিন্তু আমার দেশের একজন জনগণের ওপর আক্রমণ হলে নারায়ণগঞ্জবাসী আর বসে থাকবে না। তখন নারায়ণগঞ্জবাসী ঢাকায় গিয়ে উঠবে। দেখব তখন আমাদের কে ঠেকায়। এতদিন নেত্রীর কথায় ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু আর না। জনগণের ওপর হামলা করলে বসে থাকব না আমরা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here