আন্দোলনের ওয়েব সৃষ্টি করতে ফখরুলের আহ্বান

0
127


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: সরকারবিরোধী আন্দোলনের আপনারা আন্দোলনের ওয়েব সৃষ্টি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পেশাজীবী নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আপনারা আন্দোলনের ওয়েব সৃষ্টি করুন। আমরা রাজনীতিবিদরা সেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য একটি জাতীয় ঐক্যের কথা বলে গেছেন। সেই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে জয়ী হব।’

শুক্রবার(৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ-বিএসপিপি এর আয়োজনে পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন,‘ আমি একটা কথা খুব সিরিয়াসলি বলছি। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তাকে মুক্তি না দিলে আপনারাও মুক্ত থাকতে পারবেন না। তাকে মুক্তি না দিলে যে সংকট তৈরী হবে তা আপনারা মোকাবিলা করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি স্থাপনে পেশাজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সেই পেশাজীবীরা যদি বিকৃত মানুষিকতার অধিকারী হয়। তহলে ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়। যেটা এখন বাংলাদেশে তৈরী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে ভাবতেই অবাক লাগে আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী দল কিভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর ভর করে ক্ষমতায় থাকার কারণে তাদের আজ এই অবস্থা। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনকে আজ ভয় পায়। যে কারণে যেন তেন একটি নির্বাচন দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কথায় কথায় খুব গর্ব করে বলে বিশ্বনেতারা তাদের সঙ্গে আছেন। কিন্তু শুধু বিশ্বনেতারা থাকলেই হবে না। জনগণও সঙ্গে থাকতে হবে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে জনগণের আশা আকাঙ্খাকে বাদ দিয়ে কোন কিছু করা যায় না।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে টকশোতে অংশ নেয়া কিছু সাংবাদিকের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আর দরকার নেই। কয়েকদিন আগে কশোতে অংশ নেয়া একটি প্রত্রিকার সম্পাদকের কথা শুনছিলাম। তার বক্তব্যের সারাংশ ছিল এখন দেশের যে সমস্যাগুলো আছে, প্রধানমন্ত্রী আরেকবার ক্ষমতায় এসে সেগুলো সমাধান করে দেবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ভৌতিক মামলা হচ্ছে। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আতাতায়ির হাতে নিহত হওয়া এবং আজকের এই ভৌতিক মামলা একই সূত্রে গাথা। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে যারা দূরে সরিয়ে দিতে চায়, তাদের দর্শন একটাই। তা হল বিভিন্নভাবে জাতীয়তাবাদী নেতাদের একে একে শেষ করে দেয়া। এই লক্ষে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। এখন জামিন পেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। তারা এক এগারোর নীল নকশা একটা একটা করে চরিতার্থ করছে।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এই মামলায় ইন্টারপোল থেকে তদন্ত কর্মকর্তাদের আনা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ তদন্তকাজে কোন ধরণের সহযোগিতা করেনি। আক্রান্ত গাড়িটাও তারা পরীক্ষা করতে দেয়নি। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় সাক্ষী। অথচ তিনি একদিনও সাক্ষী দিতে যাননি।

তিনি বলেন, মামলার আসামী মুফতি হান্নানকে নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে সাক্ষ নেয়া হয়েছিল। সেটা তিনি আদালতে বলে গেছেন। মুফতি হান্নান যেন এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে না পারে, সেই জন্য তাকে মামলা শেষ হওয়ার আগেই ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা অতি দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচনের আগেই এই মামলার সবকিছু শেষ করতে চায়।

বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে নামে ভৌতিক মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, হাতিরঝিল থানায় আমাদের নামে মামলা হয়েছে। সেখানে যাদের সাক্ষি করা হয়েছে। একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে সেই সাক্ষিগুলোকে খুজে বের করেছে। জাফর দুলাল নামের একজনকে রিপোর্টার জিজ্ঞেস করেছে বিএনপির সিনিয়র নেতারা মিছিল করেছে বা কোন ঘটনা ঘটিয়েছে এমন কিছু জানেন? তিনি বলেছেন জানিনা। তখন রিপোর্টার বললেন আপনি যে এই মামলার আসামী। তখন জাফর দুলাল বলেন আমি এবিষয়েও কিছু জানিনা। ওই রিপোর্টার ১০ জন সাক্ষির সঙ্গে কথা বলেছেন। সবাই একই কথা বলেছেন। এটা শুধু তিরঝিল থানার মামলা না। সারাদেশের মামলারও একই অবস্থা।

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here