রাখাইনে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল

0
247

দেশইনফো প্রতিবেদক: প্রথমবারের মতো রাখাইনে প্রবেশে সক্ষম হয়েছে জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল। সীমিত পরিসরে প্রবেশাধিকার পায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক অঙ্গ সংস্থা ইউএনসিআর ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপি। বিরল এ সুযোগে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের ২৩টি গ্রাম সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রাথমিক মূল্যায়ন জরিপ করছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলটি।

রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রায় ১ বছর পর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘকে এ অনুমতি দিলো মিয়ানমার সরকার।

প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষে শুক্রবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাখাইনের গণহত্যাপীড়িত মংডু জেলা এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এদিকে রাখাইনে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ইইউ। সংস্থাটির বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান সিসিলিয়া মালমস্ট্রোম এ কথা জানিয়েছেন।

গত মাসের কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রাথমিক মূল্যায়ন চালায় জাতিসংঘ। এতে উঠে এসেছে, গ্রামগুলোর অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা বিভিন্ন বিরূপ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে।

অনেকেই ভয় ও নিরাপত্তার অভাবে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। বৌদ্ধ অধিবাসীদের ব্যাপারে বেড়েছে অবিশ্বাস। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার মুখপত্র আন্দ্রেজ মাহেসিক এক বিবৃতিতে এসব বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ বলে জানিয়েছে মিয়ানমার প্রতিনিধি। তবে সরেজমিন পরিদর্শনের প্রাথমিক মূল্যায়নে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তিনি বলেন, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও পরিবেশ তৈরি করা হয়নি।’

কানাডা: রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযানে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে ঘোষণা করতে কানাডার আইনপ্রণেতারা সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তথ্য-উপাত্তে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির হাউস অব কমনস সদস্যরা। জাতিসংঘের গবেষকরা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সেই অপরাধকে সমর্থন করেছেন।

কানাডার আইনপ্রণেতারা বলেন, তারা দেখতে পেয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা গণহত্যা। কাজেই এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে তারা আহ্বান জানিয়েছেন।এতে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গণহত্যার অপরাধে তাদের বিচারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কতটা মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর ছিল, সেদিকেই আমি জোর দিতে চাই। রোহিঙ্গারা যাতে ন্যায়বিচার পান ও অপরাধীরা যাতে জবাবদিহিতার আওতায় আসে, সেজন্য একটি আন্তর্জাতিক চেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছি আমরা।

ইইউ: মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত দোষীদের আশু বিচার করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ দাবি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দোষীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে সংস্থাটি। খসড়া প্রস্তাবের একটি কপির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো শনিবার এ খবর দিয়েছে।

জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে দুই সপ্তাহব্যাপী চলমান এক অধিবেশনে ইইউর পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি তোলা হয়। গত মাসে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের ইউরোপের প্রভাবশালী সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেয়া হল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গণহত্যার উদ্দেশ্যেই রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ভয়াবহ গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয়া দেশটির সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাইংসহ শীর্ষ ছয় জেনারেলকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের জন্য সুপারিশ করা হয়। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার পরিষদে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টটি প্রকাশ করা হবে।

ইইউর খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘনে দায়ীদের জরুরি ভিত্তিতে বিচার করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে এই বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।’ আরও বলা হয়, হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া মিয়ানমারকে অবশ্যই মানতে হবে।এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাসেলেট দোষীদের বিচারে জাতিসংঘকে নতুন কমিটি গঠন ও প্রস্তাব পাসেরও অনুরোধ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here