ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সোয়া দশটার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছে সাতজন। আহতরা সবাই ছাত্র ফেডারেশনের নেতা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড ও সাদিক রেজা, ঢাকা মহানগরের ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য রাসেল সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন, ছাত্র ফেডারেশন নেতা সুজন, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অনুপম রায় রুপক।
ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির তাদের সংগঠনের সাতজন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এদিকে ছাত্রলীগও ছাত্র ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তাদের দুইজন নেতাকে মারধর করার পাল্টা অভিযোগ করেছে।
কেরানীগঞ্জ থানা কমিটির ছাত্র ফেডারেশনের আহ্বায়ক মাসুম আব্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই তোমরা কারা? তখন উত্তরে আমরা জোনায়েদ সাকি ভাইয়ের লোক বলে পরিচয় দেই। এরপর ছাত্রলীগের ওই নেতারা বলে ‘জোনায়েদ সাকি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলে, সে তো চরম বেয়াদব। তোমরা ছাত্র ফেডারেশন কর, হায়! হায়! কিরে তুই কোন ভার্সির্টির’ এসব কথা বলে ছাত্রলীগের নেতারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিক কাজ শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢুকছিলাম। কিছুক্ষণ পরে ১০ থেকে ১৫ টা মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন এসে স্টিলের পাইপ, লোহার রড, বাঁশের কঞ্চি ও হকিস্টিক নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতদের কথা কাটাকাটি হয়েছে এবং বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তখন ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল টিমও ছিল। আমি সেখান থেকে সবাইকে নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল টিম এবং পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।’




