মেয়েটিকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাচিয়ে ডাক্তার বানালো এক রিক্সাচালক

0
122

বর্তমান সমাজ হয়ে উঠেছে স্বার্থপর। আজকের এই দুনিয়ায় কারোর সময় বা ইচ্ছা কোনটাই নেই অন্যের খবর নেওয়ার। এখন রাস্তায় কেউ কোন বিপদে পরলে সবাই মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। অনেকে মনে করেন যে বিপদে সাহায্য করতে জাওয়ার মানে হলবিপদে জরিয়ে জাওয়া।  কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ এখনও আছে যারা অনের বিপদে এগিয়ে আসে।

আজ আপনাদের এমন একটি গল্প বলব যা বুঝিয়ে দেবে আজও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব আছে। সব মরে যায়নি। ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে বেশ কিছু বছর আগে। গল্পটি একটি রিক্সাচালক ও একটি মেয়ের। রিক্সাচালক ছিল মেয়েটির প্রতিদিনের চালক।

তাকে প্রতিদিন নিয়ে যেত স্কুল এবং টিউশনে। তার উপরে মেয়েটির বাড়ির লোক দায়িত্ব দিয়েছিল তাকে ঠিক সময়ে বাড়ি ফেরানোর। একদিন মেয়েটি  মাঝরাস্তায় রিক্সা থামিয়ে সোজা হেঁটে যেতে থাকে রেল লাইনের দিকে, আত্মহত্যা করার জন্য। সেই কান্ড দেখে রিক্সা চালক সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় এবং মেয়েটিকে সুস্থ ভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

তার পর কেটে যায় বেশ কিছু বছর। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মেয়েটি এখন বড় হয়েছে, আর সেই রিক্সাচালক হয়েছেন বৃদ্ধ। একদিন ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর তিনি ভরতি হন হাসপাতালে। আর সেখানেই আবার দেখা হয় মেয়েটির সঙ্গে রিক্সাচালকের।

সেখনে মেয়েটি তার হাত দুটি ধরে তাকে ধন্যবাদ জানায়। আর বলে সেদিন যদি তাকে আত্মহত্যা করার হাত থেকে না বাঁচিয়ে আনতেন তাহলে আজ সে ডাক্তার হতে পারত না। সেদিন তাকে বাঁচিয়েছিল বলেই আজ সে ডাক্তার হতে পেরেছে।

তাই মেয়েটি বলে যে তার প্রান বচিয়ে যে ঋনের বোঝা তার মাথার উপর চেপেছিল সেই ঋন সে শোধ করতে চায়। আর সে ঋন শোধ করবে সেই রিক্সাচালকের চিকিৎসার সমস্ত ভার নিয়ে। একদিন সেই রিক্সাচালক তার প্রান বাঁচিয়েছিল তাই আজ সেও নিজের ঋন শোধ করার জন্য এই কাজ করলো।

এরকম কত ঘটনা ঘটে আজও আমাদের পৃথিবীতে। এখনও আমাদের স্বার্থপরের দুনিয়ায় বেচে আছে কিছু স্বার্থহীন মানুষ। যারা অন্যের উপকার করার জন্য নিজের ভালো মন্দের কথা ভাবেনা। আজও আমাদের দেশে অনেক ভালো মানুষ আছে। সবাই খারাপ হয়ে যায়নি। তাই আজও আমাদের পৃথিবি আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here