মোতাহার হোসেন: করোনা সংকটে বাড়ী ভাড়া মওকুফ করে দেয়ার জন্যে অনেকেই ফেইসবুকে লেখালেখি করছেন। ফেইসবুকে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। আমার অনুরোধ বিষয়টি ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, হুজুগে, আবেগে অযৌক্তিক কিছু বাড়িওয়ালাদের ঘাড়ে ছাপিয়ে দিবেন না।
এখানে প্রথমে দেখতে হবে আপনার ভাড়াটিয়া কে? তিনি কি করেন?
এ ক্ষেত্রে আপনার ভাড়াটিয়া যদি সরকারি চাকুরিজীবী হন, তাহলে আপনার ভাড়াটিয়া তো বাড়ীভাড়ার টাকা সরকার থেকে নিয়ে নিয়েছেন। অগ্রীম নিয়ে নিয়েছেন। আপনার ভাড়াটিয়া যদি সরকারি কোন ব্যাংকের লোক হন তা’হলে তিনি বেতন বাড়ীভাড়া এমনকি বৈশাখী ভাতার টাকা ও অগ্রীম নিয়ে নিয়েছেন। আর আপনার ভাড়াটিয়া যদি কোন প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হন তাহলেও তিনি বেতন, বাড়ি ভাড়া সহ অন্যান্য ভাতা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন। এখন আপনি যদি বাড়ি ভাড়ার টাকা না নেন তাহলে কী এই ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা বাড়ি ভাড়ার টাকাটা সরকারকে, ব্যাংক’কে অথবা তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সে প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিবেন? না, অবশ্য ই দিবেন না। দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত ও হবে না। আর যদি তাই হয়, তা’হলে কোন যুক্তিতে আপনি বাড়ি ভাড়ার টাকা মওকুফ করে দিবেন?
এছাড়া সব বাড়ি, সব এলাকার বাড়ির আর্থসামাজিক অবস্থা এক ও অভিন্ন নয়। অনেক আছেন, যাদের আলাদা কোন ইনকাম নাই, বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসারের যাবতীয় প্রয়োজন সম্পন্ন করেন। অনেকের বাড়ির বিপরীতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ আছে। ভাড়ার টাকা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।আবার সব এলাকার বাড়ির বিপরীতে ঋণের সুদ, কিস্তি এক রকম হলেও ভাড়া একরকম নয়।
যেমন মতিঝিল, ফার্মগেট ধানমন্ডি গুলশান সহ রিচ এলাকার যে বাড়ি পঞ্চাশ হাজার টাকা ভাড়া মিরপুর দুয়ারী পাড়া শ্যামলী মোহাম্মদ পুর সহ যেসব এলাকায় মধ্যবিত্ত নিন্মবিত্তের লোকজন থাকে সে-সব এলাকায় ওই রকম বাড়ি ভাড়া মাত্র পঁচিশ হাজার টাকা বা তার চেয়ে একটু বেশি বা আরো কম। এতে অনেক এলাকার বাড়িওয়ালা এমনিতেই ঋণ পরিশোধে হিমসিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় গড়ে ভাড়া মওকুফ করলে এদের উপর মরার উপর খাড়ার গা এর মত হবে।
তবে যে-সব ভাড়াটিয়া মাসিক বেতন পান না, বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না, যাদের স্থায়ী ইনকাম নাই, দৈনন্দিন ইনকাম যাদের, নাই কাজতো বেতন ও নাই যাদের, তারা এ দুর্সময়ে ভাড়া কি ভাবে দিবে? এ রুপ ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক অবশ্য ই বিবেচনা করবেন। আর কেউ যদি স্ব উদ্যোগে মওকুফ করে দেন, তা তিনি অবশ্য ই পারেন, তাকে সাধুবাদ জানাই।।





