‘১৮ মাসে নির্বাচনের বিষয়টি সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত মত’

0
99

‘আগামী ১৮ মাসের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে’ বলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সেটা তার নিজস্ব মত বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের প্রধান সংস্কারসমূহ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে, যাতে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আজ এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গোলাম মোহাম্মদ কাদের ওরফে জিএম কাদের বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে তো নির্বাচন করতেই হবে। কাজেই এটা নিয়ে আমরা সবাই একটা হিসাব করছি। নির্বাচন নিয়ে সবার নিজস্ব একটা হিসাব আছে। এখন যা বলা হচ্ছে এগুলো সবই ধারণা। কারণ কোনো কিছুই তো আমরা চূড়ান্তভাবে জানি না। সবকিছু অনিশ্চিত। সেই হিসেবে সেনাপ্রধান হয়ত ধারণা করছেন, ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা তার ব্যক্তিগত ধারণা ও মূল্যায়ন। বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি এ কথা বলেছেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে সবাই যার যার অবস্থান থেকে এমন মূল্যায়ন করছেন। নির্দিষ্ট করে নির্বাচনের তারিখ বলার দায়িত্ব সেনাপ্রধানের নয়। সেটার জন্য যারা দায়িত্বে (অন্তর্বর্তী সরকার) আছে, তারাই বলবে।’

কাউকে অপরিসীম ক্ষমতা দেওয়া হলে ওই ব্যক্তি যে রকম মানুষ হোক না কেন, আমরা ধরে নিতে পারি তার নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিরঙ্কুশ দুর্নীতি মানে শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, সেখানে ভোট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুর্নীতি, দেশের আইন-বিচার বিভাগ সবকিছুতে হস্তক্ষেপ থাকে। সেজন্য আমি মনে করি, আগে আমাদের সংবিধান ঠিক করতে হবে

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন বলেন, ‘এটা (সহযোগিতার বিষয়) সেনাপ্রধান না বললেও বোঝা যায়, তার সমর্থন স্বাভাবিকভাবে থাকবেই। কারণ এ প্রক্রিয়া ও কাঠামোর মধ্যে তিনি যুক্ত। তিনি সবাইকে (রাজনৈতিক নেতাদের) ডেকে এ সরকার গঠন করিয়েছেন। কাজেই স্বাভাবিক ব্যাপার এখানে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা অতীতে ভালো নির্বাচন দেখেছি। ভালো নির্বাচন হলেও ভালো সরকার দেশ পরিচালনায় আসেনি। আবার ভালো নির্বাচনের পরে গঠিত সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরবর্তীতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতেও দেখেছি।’

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখন সংগঠন ঠিক করছি। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের নিয়ে একটা নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা মোকাবিলা করে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। এভাবে জনসমর্থন লাভ করার চেষ্টা করছি। এতে সামনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভালো একটা অবস্থান হবে।’

জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে এককভাবে নাকি জোটগতভাবে অংশ নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচন কাছাকাছি না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারবে না। কোনো দলই বলতে পারবে না তারা এককভাবে নির্বাচন করবে কিংবা জোটগতভাবে করবে। কার সঙ্গে কার জোট হবে সেটা এখন কেউ বলতে পারবে না। কারণ এখনো সবকিছু অত্যন্ত অনিশ্চিত অবস্থায় আছে। এখন এই ব্যাপারে কেউ যদি কিছু বলে, সেটা হবে কথার কথা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here