জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মালিকানা এবং ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনেছে দুদক। বুধবার (১ জানুয়ারি) ঢাকায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এামলাে নথিতে দুদক কর্মকর্তা জানান, সাবেক আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ১৪৭ কোটি টাকার সম্পদেও মালিকানাপূর্বক দখলে রেখেছেন। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, একই সাথে তিনি নিজ নামে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেও নামে ২৯টি একাউন্টে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। দুদক মনে করে এই লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং-এর সম্পৃক্ত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন করার জন্য লেনেদেনের রুপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন। এ কারণে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৯ এর ৫(২) ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় একটি মামলা রুজু করে দুদক।
এর আগে গত বছরের ১৩ আগস্টে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে (২৪) হত্যার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় আনিসুল হক ছাড়াও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌরমেয়র তাকজিল খলিফা কাজল এবং বিজিবি সরাইল ১২ ব্যাটালিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক (সিইইউ) মেজর এরশাদকে আসামি করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আফরিন আহমেদ আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি রুজু করতে নির্দেশ দিয়েছেন।




