পুরান ঢাকায় সম্পত্তি জবরদখলে যুবদল নেতা মঈনের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

0
107

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভুয়া হোল্ডিং নম্বর ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি (অর্পিত) আত্মসাৎ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি জবর-দখল করা হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ততম সিদ্দিক বাজার এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। সম্পত্তি দখলের এই অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। সারাদেশেই প্রশাসন ও আইনÑশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিকার। এই মওকাসয় চলমান চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের হুজুগে পিছিয়ে পড়তে চান নি রাজধানীর তৃণমূল পর্যায়ের এ নেতা।

ভুক্তভোগীরা জানান, ৫ আগস্টরে পর চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বে মেতে উঠেছে একটি শ্রেণী। এই শ্রেণিভুক্তদেরই কয়েকজন হলেন রাজধানীর ২০ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো: মঈন মঈন, তার বাহিনীর সদস্য নাজমুল হোসেন বাদল, মো: মতিন ও নাসির। প্রতিবেদক ফোন দিয়েছিলেন মো: মঈনকে কিন্তু একই স্থানে বসে ছিলেন বাদল এবং নাসিরসহ অন্যান্যরা।

ওই ওয়ার্ডভুক্ত নথ সাউথ রোড ২ নং সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মরণিসংলগ্ন ১৪/১ কাজি আব্দুল হামিদ লেন। অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়ার পরপরই ১৫ নং হোল্ডিংয়ের অবৈধভাবে লিজ এনে জবর-দখল করেছেন ১৪/১ হোল্ডিংয়ে অব¯ি’ত পাঁচ তলা একটি ভবনের বেশ কিছু অংশ। ভবনটির পাঁচ তলার সম্পুর্ণটা মঈনের মালিকানাধীন জুতার গোডাউন করা হয়েছে। নিচের দোতলা জবরদখল করেছে সোহাগ পরিবহনের অফিস ও সুশীল মজুমদারের হোমিও হল। অবশিষ্ট অংশও চলছে জবর-দখলের পাঁয়তারা। তাদের দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ট কেউ কেউ দ্বারস্ত হয়েছেন থানা-পুলিশ এবং আদালতের। তবে এসব কিছুকে কথিত এই যুবদল নেতারা থোড়াই তোয়াক্কা করছেন।

একজন ভুক্তভোগী জানান, তার পিতা মকবুল আহমেদ ১৯৮৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ১৫ নং কাজী আব্দুল হামিদ লেন বংশাল থানার ভিপি কেস নং ২৭/৬৯ এর ৩৬ বাই ১৩ ফুট জায়গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, অর্পিত সম্পত্তি দফতর ঢাকা থেকে লিজ নেন। মকবুল ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বরদ্দকৃত ভাড়া পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে আর্থিক সঙ্কটসহ নানা অসুবিধার কারণে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন নি। বকেয়া পড়ে যায়। ২০০০ সালে ইন্তেকাল করেন মকবুল আহমেদ। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৫ সালের বকেয়া ভাড়া বাবদ ১৪৭৫৫/= টাকা ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল পরিশোধ করেন (রশিদ নং-২৪৯৫২৮) তার ওয়ারিশ তথা সন্তানগণ। ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সালের বকেয়া ভাড়া ও ২০১১ সালের ভাড়া তারা পরিশোধ করেন (রশিদ নং-৮৩২২১) ২০১১ সালে ১ নভেম্বর।

২০১৮ সালে মকবুলের ওয়ারিশগণ ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরাবর বকেয়া ভাড়া পরিশোধ ও মৃত মকবুল আহমেদের ওয়ারিশদের নামে লীজ প্রদানের আবেদন করেন। কিন্তু তাদের আবেদন অনুমোদন না করে কালক্ষেপণের কৌশল নেয়া হয়। অন্যদিকে মকবুল আহমেদের ভাড়াটিয়া মো: নাজমুল হোসেন বাদলের নামে লিজ দেয়া হয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করার পর নাজমুল হোসেনের নামে লীজ দেয়ার সময় বকেয়া ভাড়া পরিশোধ দেখানো হয় ১৯৬৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। যার একটির রশিদ নং-১৭৮২৩৯। অপর একটি রশিদে ‘নাজমুল হোসেন বাদল গং’ নামে ভাড়া পরিশোধ দেখানো হয় ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সেইসঙ্গে নাজমুল হোসেন বাদল গংয়ের নামে দেখানো হয় , নাসির, সাইদুর এবং মোঃ মতিনের নাম। এই লীজ দেয়া হয় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। যার স্মারক নং-০৫.৪১.২৬০০.০২৬.৪২.০২৭.৬৯.৩৬৩৯ তারিখ- ১০ ডিসেম্বর -২০২৪ ইং।

এই লীজ বরাদ্দ পত্রে ১৫ নং কাজী আব্দুল হামিদ লেন বংশাল থানার ভিপি কেস নং ২৭/৬৯ উল্লেখ করে জমি বরাদ্দ দেখানো হয় ১৫৯৮ বর্গফুট ও ১৪৭২ বর্গফুট স্পেস। অথচ ১৫, কাজী আব্দুল হামিদ লেন বংশাল থানার ভিপি কেস নং ২৭/৬৯ তে লীজকৃত জমির পরিমাণ ৩৬ বাই ১৩ ফুট বা ৩৯০ বর্গ ফিট। যার দাগ নং – যার দাগ নং-১০৩৫৯, ১০৩৫৮ ও ১০৩৫৮। জমির পরিমাণ .১০৩৬ অযুতাংশ।

অর্থাৎ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মো: নাজমুল হোসেন গং এই লিজ গ্রহণের নামে সরকারি সম্পত্তিটি জবর দখল করে। নামে মিথ্যা তথ্য ও জালজালিয়াতি করে এই লীজ বরাদ্দ পত্রে জমির পরিমান ৩৬ বাই ১৩ ফুটের পরিবর্তে ১৫৯৮ বর্গফুট ও ১৪৭২ বর্গফুট উল্লেখ করা হয়। ফলে বর্তমান মালিক সাফাকাত ও বাকের হোসেনের কেনা সম্পত্তি, দাগ নং ১০৩৫৮ ও ১০৩৫৮ দাগের ০.৩৩০ অযুতাংশ জায়গাও অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে লীজ দেখানো হয়।

এ হেন জালিয়াতিপূর্ণ এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে মকবুল আহমেদ, মজিতুন নেসা ও আবুল হোসেনদের কেনা সম্পত্তি যাহা ২০০৫ সালে সাফাকাত ও বাকের হোসেনের কাছে যৌথভাবে বিক্রি করে কেনা সম্পত্তি তা অর্পিত সম্পত্তি’ দেখিয়ে লীজের নামে জবর দখল করেন নাজমুল গং। বিষয়টি অবহিত করে সাফাকাত হোসেন গং জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন। এ প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা প্রশাসন জমির সঠিক পরিমাপের জন্য সার্ভেয়ার নিয়োগ দেয়। কিন্তু সার্ভে করার সময় ২০ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা-কর্মী পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসী পরিমাপের কাজে বাধা দেয়। বংশাল থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকার পরও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।

বংশাল থানাধীন ৩৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন এবং শাহবাগ থানাধীন ২০ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন মঈন এই জবর-দখলে মদদ দিচ্ছেন এমন অভিযোগ করা হয়। এ দুই নেতার প্রভাবে জালিয়াতকারীরা এরই মধ্যে ১৪/১ হোল্ডিংয়ের বিল্ডিংটি দখল করে নিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ক্রয়কৃত পজিশনের মালিক হাবিব, আবু সিদ্দিক খান, মনোয়ার হোসেন, আকতার হোসেন , সোহাগ পরিবহনের জিএম মো: নাসির।
মূল জবরদখলকারি নাজমুল হোসেন ডা: দিপু মনির ঘনিষ্ঠজন ছিলেন ও সৈয়দুর রহমান চৌধুরী নয়ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মরত আছে। এই সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে জাল-জালিয়াতি করে চলেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে বজায় রেখেছেন দখল-দারিত্ব।

এ পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মকবুল আহমেদের ওয়ারিশ নাসরিন আমিন। আশঙ্কা করছেন, জবর দখলে চলে যাওয়া অর্পিত সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। শিকার হতে পারেন হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার। কিংবা মবের। তাই তারা সরকারের প্রতি তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় শাহবাগ থানার ২০ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক মো: মঈনকে। জবাবে তিনি বলেন, আমার জানা মতে এটি লিজকৃত সম্পত্তির মালিক নাজমুল হোসেন বাদল গং। মকবুল আহমেদ মারা যাওয়ার আগেই শাফাকাত নামে আরেকজনের কাছে এই লিজ বিক্রি করেন, তখন আমি আমার দোকানের ভাড়া দিতাম সাফাকাতকে আর এখন এই লিজ কিনে নিয়েছেন বাদল-নাসিরগং, এখন আমি তাদের ভাড়া দেই। এখানে আমার নিজস্ব কিছু নাই। আমি কোন প্রভাব খাটাচ্ছি না।

বর্ণিত বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বংশাল থানা (৩৪ নং ওয়ার্ড) বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, আমি এসবের আগেও নাই, সাথেও নাই। কাউন্সিলর মামুনচ ডেকেছিলেন, তার ডাকে গিয়েছিলাম। এটুকুই আমার সম্পৃক্ততা। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।

বিবাদী বাদল-নাসির গংয়ের নাসির প্রতিবেদককে বলেন, বাদীর আবেদনের কোন ভিত্তি নাই। সম্পুর্ন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বংশাল থানা এবং পিবিআইও তদন্ত করেছে। প্রশাসন তাদের কাগজ-পত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেছে কিন্তু তারা যথা সময়ে উপস্থিত হন নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here