২০১৮ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে শোবিজ দুনিয়ায় পা রাখেন মিম মানতাসা। তার প্রতিভা এবং মেধার জন্য তিনি দ্রুত দর্শকদের মন জয় করেন এবং মডেলিং ও অভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে অনেক দিন ধরেই পর্দায় নেই তিনি। দুই দিন আগে হঠাৎ করেই ইউটিউবে এলো তাঁর অভিনীত নতুন নাটক ‘নাইস টু মিট ইউ’।
এক দিনেই পেয়েছে মিলিয়ন ভিউ। মিমের ক্যারিয়ার ও ব্যস্ততা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।
অনেকক্ষণ আপনাকে পাওয়া যাচ্ছিল না…
আমি ফোনের পাশে ছিলাম না। বাসায় থাকলে আসলে ফোন খানিকটা এভয়েড করি।
অনেক সময় কোথায় রাখি ভুলে যাই। আসলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি ভালো লাগে, ফোনের প্রতি কোনো আসক্তিও নেই।
‘নাইস টু মিট ইউ’ নাটকটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দারুণ।
এতটা সাড়া পাব সত্যিই আশা করিনি। মাত্র এক দিনে এক মিলিয়ন ভিউ! ইউটিউব চ্যানেলটি কিন্তু নতুন। মাত্র ৫৪ হাজার সাবস্ক্রাইবার। কনটেন্টও আছে মাত্র ২টা। আমাদের নাটকটার মন্তব্যের ঘর দেখলে বুঝতে পারবেন, সবাই প্রশংসা করছে।
এক দিনেই প্রায় দেড় হাজার মন্তব্য। যদি সবার মন্তব্যের উত্তর দিতে পারতাম খুব ভালো লাগত। অনেকে আমাকে নাটকে দেখে খুশিও হয়েছেন। প্রশংসা করেছেন তাঁরা। অনেকের কাছ থেকে নিয়মিত অভিনয় করার অনুরোধও পাচ্ছি।
অনেক দিন তো অভিনয় করেননি। এ নাটকটিতে যুক্ত হলেন কিভাবে?
পরিচালক সজল আহমেদ ভাই অভিনয়ের প্রস্তাব দিলেন। এ রকম তো প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রস্তাব পাই। তাই অতটা গুরুত্ব দিইনি। এরপর ভাই স্ক্রিপ্ট পাঠালেন। সেটা পড়ার পর ভালো লাগল। ভাইকে বললাম, একদিন দেখা করে প্লানিংটা শুনব। এরপর আমরা দেখা করলাম, ভাইয়ের কাছে শুনলাম আমার সঙ্গে মুশফিক আর ফারহান ভাই অভিনয় করবেন। একটা কথা বলি, বিশ্বাস করেন মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগেও জানতাম না তাঁর এত ফ্যান-ফলোয়ার। ইউটিউবে এত ভিউ আছে! শুটিংয়ে গিয়েই জানতে পারলাম তিনি এই সময়ের অন্যতম সেরা তারকা। যা হোক, নাটকটিতে অভিনয় করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান নির্মাতা সজল ভাইয়ের। তিনিই আমাকে যুক্ত করেছেন।
মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
ওই যে বললাম, আগে তাঁর সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। তবে ক্যামেরার সামনে দেখলাম কী অসাধারণ অভিনেতা তিনি। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য বেশ কয়েকটি নাটকও দেখলাম। মুশফিক আর ফারহান আজ যে জায়গায় অবস্থান করছেন এটা তিনি ডিজার্ভ করেন। আমাদের নাটকের বেশির ভাগ অংশ শুটিং হয়েছে আউটডোরে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা শুটিং করেছি। ফারহান ভাই সব সময়ই আমার খেয়াল রেখেছেন। এমনকি ক্যামেরার সামনেও অনেক দৃশ্যে আমাকে উতরে নিয়েছেন।
হাতে নতুন প্রজেক্ট কী আছে?
বলতে চাই না। বললে অনেক সময় প্রজেক্টগুলো বাতিল হয়ে যায়। এটুকু বলতে পারি, এবার অভিনয়ে নিয়মিত পাবেন আমাকে। নাটক, সিরিজ, ওয়েব ছবি—সবখানেই পাবেন।
চলচ্চিত্রে পাওয়া যাবে না?
ইচ্ছে তো আছে। কার না বড় পর্দায় নিজেকে দেখতে ইচ্ছা করে না বলেন! আমি অপেক্ষায় আছি বরাবরই। শোবিজে আমার সাত বছর হতে চলল। শুরু থেকেই বলে এসেছি ভালো চলচ্চিত্রে সুযোগ পেলে কাজ করতে চাই। জানি না সেই সুযোগ কবে আসবে।
ঈদে কোনো সিনেমা দেখেছেন?
অবশ্যই। শাকিব খান-সাবিলা নূর অভিনীত ‘তাণ্ডব’ আর জাহিদ হাসান-অপি করিম অভিনীত ‘উৎসব’ দেখেছি। তাসনিয়া ফারিণ আপু অভিনীত ‘ইনসাফ’ও দেখার ইচ্ছা রয়েছে। হয়তো এই সপ্তাহেই দেখে ফেলব। আমাদের চলচ্চিত্র এখন কিন্তু অনেক বদলেছে। গল্পে, নির্মাণে অনেক আধুনিকতা এসেছে। দেশের বাইরেও বাজার তৈরি হয়েছে। এগুলো ভাবতেও ভালো লাগে।




