কিংবদন্তি ফিরোজা বেগমকে হারানোর ১১ বছর

0
46

আজ ৯ সেপ্টেম্বর। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফিরোজা বেগমের চলে যাওয়ার দিন। ২০১৪ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। আজ তাঁর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী।

ভারতীয় উপমহাদেশে নজরুলসংগীতকে জনপ্রিয় ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করা এই শিল্পীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সংগীতপ্রেমী মহল। তবে রাজধানীতে তাঁর স্মরণে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নেই। পারিবারিকভাবে নীরবেই দিনটি কাটাবেন তাঁর স্বজনরা।

ফিরোজা বেগমের পুত্র ও বাংলাদেশ মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন [বাবমা]এর সভাপতি হামিন আহমেদ বলেন, “প্রতিবারের মতো পারিবারিকভাবেই মায়ের জন্ম ও মৃত্যুদিন আমরা স্মরণ করি। এবারও তাই হবে। দুঃখের বিষয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ দিনটি স্মরণ করা হয় না। অথচ গুণী মানুষদের স্মরণ করা রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। আমার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”

১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় জন্ম নেন ফিরোজা বেগম। বাবা খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল ও মা বেগম কওকাবুন্নেসা। শৈশবেই সংগীতের প্রতি প্রবল অনুরাগ জন্মে তাঁর। মাত্র দশ বছর বয়সে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্যে এসে তালিম গ্রহণ করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালেই অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান পরিবেশন করেন।

১৯৪২ সালে গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে তাঁর প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়। কয়েক বছর পর সুরকার কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ডও করেন তিনি। সেই সূত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুজনের, যা ১৯৫৫ সালে পরিণতি পায় বিবাহে।

১৯৫৪ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন। ফিরোজা বেগমের শিল্পজীবন ছিল সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। নজরুলগীতির পাশাপাশি তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন ও হামদ-নাতসহ নানা ঘরানার গান করেছেন। ১৯৪৯ সালে তাঁর কণ্ঠে নজরুলের গান ‘দূরদ্বীপবাসিনী’ ও ‘মোমের পুতুল’ প্রকাশ পায়, যা কালজয়ী হয়ে আছে আজও। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৩৮০টির বেশি একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রকাশিত হয়েছে ১২টি এলপি, চারটি ইপি, ছয়টি সিডি ও ২০টির বেশি অডিও ক্যাসেট। শিল্পচর্চায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here