প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল জালিয়াতিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক। ১৬ বছর পর দেশ প্রথমবারের মতো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।’ সোমবার রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য ফোরামের (ডব্লিউএফএফ) প্রধান অনুষ্ঠানের ফাঁকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। বৈঠকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আসন্ন মাসগুলোতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, উভয় নেতা বিশ্ব খাদ্য ফোরামে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এবং পরে এফএও সদরদপ্তরে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে সামাজিক ব্যবসা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় কৌশলসহ পারস্পরিক আগ্রহের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট লুলাকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। লুলা দা সিলভা তা গ্রহণ করে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
‘আমি বাংলাদেশে যাব’ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন প্রেসিডেন্ট লুলা। তিনি যোগ করেন, ব্রাজিল তার নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে এবং বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণের পথপ্রদর্শক অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। অধ্যাপক ইউনূস তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘দারুণ হবে!’
দুই নেতা গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল খাত—বিশেষ করে টিকা পেটেন্টমুক্ত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ—জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা (আসন্ন কপ-৩০ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে) এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন বিষয়েও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে স্মরণ করেন, তিনি ২০০৮ সালে তৎকালীন ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে সফর করেছেন।
প্রেসিডেন্ট লুলা অধ্যাপক ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানান আগামী কপ-৩০ সম্মেলনে যোগ দিতে, যা অ্যামাজন অঞ্চলের একটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে—বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য সংরক্ষণের লড়াইয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে। তবে অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি হয়তো ওই সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন না, কারণ সে সময় তিনি বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৬ বছর পর দেশ প্রথমবারের মতো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল জালিয়াতিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক।’
একটি আনন্দঘন মুহূর্তে দুই নেতা ফুটবলকে বিশ্বব্যাপী ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে মানুষ ব্রাজিল দলের সমর্থক। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। অপরদিকে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।





